নববর্ষের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলা কিম জং উনের কথার উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার কাছে থাকা পারমাণবিক বোমার বোতাম ‘আরও বড়’, ‘আরও শক্তিশালী’।

মঙ্গলবার করা এক টুইটে ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরীয় নেতার ভাষণের এ প্রতিক্রিয়া জানান বলে খবর বিবিসির।

উত্তর কোরীয় ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের করা এ সর্বশেষ টুইটকে কিমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের কথার লড়াই হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

পিয়ংইয়ং এর একের পর এক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যে এর আগেও দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুড়েছেন, দিয়েছেন হুমকি।

সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া খ্রিস্টীয় নববর্ষের ভাষণে কিম যুক্তরাষ্ট্রে ফের পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, পারমাণবিক বোমা ছোড়ার একটি বোতাম সবসময় তার ডেস্কেই থাকে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, তার কাছেও পারমাণবিক বোমার বোতাম থাকে, আর তা কিমেরটার চেয়েও বড় এবং বেশি শক্তিশালী।

“ক্ষয়ে যাওয়া এবং খাদ্যের অভাবে অনাহারে থাকা (উত্তর কোরীয়) শাসনব্যবস্থার কেউ কি তাকে (কিম) দয়া করে বলবেন, আমারও একটি পারমাণবিক বোতাম আছে; এটি তার বোতামের চেয়ে অনেক বড় এবং বেশি শক্তিশালী। আমার বোতাম কাজও করে,” টুইটে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টর আছে পারমাণবিক হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার তাৎক্ষণিক এখতিয়ার; কিমকে দেওয়া জবাবে ট্রাম্প সেদিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন বলে মন্তব্য বিবিসির।

গত কয়েক বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই একের পর এক দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। সেসব ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভুখণ্ড আছে বলেও দাবি পিয়ংইয়ংয়ের।

পর্যবেক্ষকরা অবশ্য এখনও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান; হাজার মাইলের দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হলেও পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যে ঠিকঠাক আঘাত হানতে পারবে কীনা, কিংবা হানলেও তা কতটুকু ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

ট্রাম্প এবং কিম একে অপরকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে কথার লড়াইকে জমিয়ে তুলেছেন। গত বছরের মাঝামাঝি কিম মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভীমরতিগ্রস্ত বুড়ো’ বলেছিলেন; প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতাকে দিয়েছিলেন ‘লিটল রকেটম্যান’ খেতাব।

কিমের উদ্দেশ্যে লেখা ট্রাম্পের নতুন টুইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকেই বলছেন, পারমাণবিক হামলা নিয়ে দুই নেতার অবস্থান তাদের শঙ্কিত করছে।

কেউ কেউ আবার নির্বাচনী প্রচারের সময় ‘হাতের আকার’ নিয়ে রিপাবলিকান নেতা মার্কো রুবিওর সঙ্গে ট্রাম্পের বাদানুবাদের কথাও স্মরণ করেছেন। শুরুর দিকে ট্রাম্পের মতো রুবিও-ও ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী; সে লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে পরে নির্বাচনে জিতে ওভাল অফিসের চাবিও বাগিয়ে নেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প।

নির্বাচনী প্রচারের সময় রুবিও ট্রাম্পের ‘হাত ছোট’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প বলেন, “সে আমার হাতকে ইঙ্গিত করে বুঝিয়েছে, যদি সেগুলো ছোট হয়, তাহলে অন্যকিছুও ছোট। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, সেরকম কোনো সমস্যা নেই। ”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের ডেস্কে একটি বোতাম ছাড়া অন্য কোনো বোতাম কখনোই চোখে পড়েনি; ওই বোতাম দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেয়ারাকে ডায়েট কোক আনতে সঙ্কেত দেন, পারমাণবিক হামলার নয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য