ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।

সোমবার দিবাগত রাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে আরো নয়জন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

মধ্যাঞ্চলীয় ইস্পাহান অঞ্চলের এই সহিংসতার পর ছয়দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা অন্ততপক্ষে ২২ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার রাতে প্রতিবাদকারীরা কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের সূত্রে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিগুলোতে দেখা গেছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাহদেরিজানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রতিবাদকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং স্টেশনটির একটি অংশে আগুন জ্বলছে।

পুলিশ স্টেশনটি থেকে অস্ত্র লুটের চেষ্টাকালে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্য একটি এলাকায় ইরানের বিপ্লবী রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১১ বছর বয়সী এক বালক ও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে খবর হয়েছে।

বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে প্রতিবাদকারীরা ট্র্যাফিক পুলিশের একটি পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয়, তবে এ ঘটনায় কেউ আঘাত পায়নি।

বৃহস্পতিবার সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে শনিবার দুজন ও রোববার অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানি নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু তা যেন অস্থিরতা তৈরির কারণ না হয়, উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি।

কিন্তু প্রেসিডেন্টের এ আহ্বানেও প্রতিবাদ থামেনি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাজাফাবাদে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া বিক্ষোভকারীদের গুলিতে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

এর আগে একই টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, রোববার বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি দখল করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু ‘নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কঠোর প্রতিরোধে’ তা থামানো সম্ভব হয়। তবে খবরে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি এবং অন্য কোনো গণমাধ্যমও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

রোববার ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। কিন্তু সোমবার পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর সায়িদ শাহরোখি বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে জানিয়েছেন, রোববার ‍তাইজারখান শহরে আরো তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

কর্মকর্তা ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত কয়েকশত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করছে। ফুটেজগুলো রোববার গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দুর্নীতির অভিযোগে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে ইরানের দ্বিতীয় জনবহুল শহর মাশহাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মেহমুদ আহমাদিনেজাদ বিতর্কিতভাবে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর থেকে এবারের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকেই জন অসন্তোষের সবচেয়ে গুরুতর ও ব্যাপক প্রকাশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য