মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ থেকেঃ বীরগঞ্জে ২ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা সাথে জরিত সন্দেহে ৬৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করায় পশ্চিম ভোগডোমায় গ্রেফতার আতঙ্কে ৩ দিন ধরে মানুষ্য বিহিন নির্জন গ্রামে পরিনত হয়েছে।

নিহত শাহাবুদ্দিনের বৃদ্ধা মা মোছাঃ মালেকা বানু বাদী হয়ে বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০২ ও ১১৪ ধারায় এজাহার নামীয় ২৯ জন ও অজ্ঞাত পরিচয় ৩০/৩৫ জনকে আসামী করে গত ২৯ ডিসেম্বর ১৭(১২)১৭নং হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ সন্ত্রাসীদের নামের তালিকা পেয়ে রাতেই গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে পশ্চিম ভোগডমা গ্রামে বিভিন্ন বাড়ীতে তল্লাশী চালিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের সন্ত্রাসী ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৪) ও ৩১ ডিসেম্বর সকালে আলাল উদ্দিনের ছেলে জহির উদ্দিন (৫০)কে গ্রেফতার করে ও অন্যরা পালিয়ে যায়। গত শুক্রবার রাত থেকে গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছে (নারী-পুরুষ) অপরাধীরা।

উল্লেখ্য, বীরগঞ্জ থানা সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডমা গুচ্ছ গামের আলিম উদ্দিনের বাড়ীর জানালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে অজ্ঞাত চোরেরা গত বৃহস্পতিবার রাতে ২ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় প্রতিবেশী ফজর আলীর ছেলে (ঢাকায় রিক্সা চালক) শাহাবুদ্দিন (৩৮) ও তার স্ত্রী রোজিনা (২৮)কে বাড়ী থেকে ধরে বেধে বাড়ীতে এনে গাছে বেধে মারপিট ও নির্যাতন করে। সংবাদ পেয়ে পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুস্তম আলীর নেতৃত্বে ১০/১২জন ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।

পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুস্তম আলী নিরুপায় হয়ে থানায় সংবাদ দেয়। খবর পেয়ে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপর চড়াও হয় ও ঘিরে ধরে আটকে রাখে। পুলিশের উপস্থিতিতে শাহাবুদ্দিনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে লবন ও পটাশ সার লাগিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে শাহাবুদ্দিন মারা য়ায়। নিহত শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী রোজিনাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আহত রোজিনা জানান, সন্ত্রাসীরা তাদের ২টি সন্তানকে হত্যা করার জন্য বাড়ী বাড়ী তল্লাশী চালিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য