কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নে উত্তর তিলাই গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদ পেয়ে ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানরা আবদুর রাজ্জাক ও শাহিন আর্মির বাড়িতে ভারতীয় গরু ধরার জন্য যায়।

ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ রফিক এ প্রতিনিধিকে জানান, ইনফরমারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা উত্তর তিলাই গ্রামে আবদুর রাজ্জাকের ২টি গরু ও শাহিন আর্মির ১টি গরু ঘরের পাশে গাছে বাঁধা আছে মর্মে ধরতে যায়।

সেখান থেকে বিজিবি জোয়ানরা ভারতীয় গরু মনে করে বাড়ির গরু ধরে আনতেছিল। এমন সময় বাড়ির লোকজন বুঝতে পেরে চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকলে গ্রামের অনেক লোক জমা হয়।

জোয়ানরা গরু ৩টি ক্যাম্পে আনর চেষ্টা করলে পুরুষ-মহিলা সবাই মিলে গরু টানা-টানি শুরু করলে জোয়ানরা এলোপাতাড়ি যাকে পায় তাকে মারে।

এ সময় মনিরুজ্জামান মনির (২৮) ঐ পথ দিয়ে ভূরুঙ্গামারী থেকে আসতেছিল। পথিমধ্যে সে বলতেছিল, ঘটনাটি ভিডিও করো। একথা শুনে জোয়ানরা ক্ষেপে তাকে বেদম প্রহার করেন ফলে তার মাথা ফেটে যায় এবং গরু ছেড়ে দিয়ে ক্যাম্পে চলে আসেন। মনির বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তার মাথায় ৯টি সেলাই দেয়া হয়েছে।এছাড়াও আরও ৬জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এরা হলেন উত্তর তিলাই গ্রামের মৃত গফ্ফার আলীর পুত্র আবদুর রাজ্জাক (৩২) ও সাইদুল ইসলাম (৩৫), সবুর উদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন (৩০), মিজানুর রহমানের স্ত্রী লিপি খাতুন (২৬), মাহালমের স্ত্রী রাশেদা পারভীন (২৬) ও সবুর উদ্দিনের কন্যা ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সোমা (১৩)।

শিলখুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ঘটনাটি জানতে পেরে তৎক্ষনাত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি যাতে বেশীদূর না গড়ে সেজন্য থানায় মামলা না করার পরামর্শ দেন।

এ ব্যাপারে ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ রফিক মতামত দেন, আমরা গরু আনছিলাম ঠিক কিন্তু কোন মারপিট করি নাই। এলাকাবাসী ঢিল মেরে নিজেরাই আহত হয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য