মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে নতুন বছরের শুরুতে স্কুল ও মাদরাসার প্রায় সাড়ে ৮ লাখ কোমলমতি শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পাচ্ছে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারী বই উৎসবের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যের এসব বই জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোকেশনাল, মাদরাসার ইবতেদায়ী ও দাখিল ভোকেশনাল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

দিনাজপুর জেলা মাধ্যমিক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, ইতোমধ্যে জেলার ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণের জন্য ৭২ লাখ ১৬ হাজার ৫৪৩টি বই ১৩টি উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও মাদরাসায় প্রেরন করা হয়েছে। গত দশ বছর ধরে প্রতিবারই ১ জানুয়ারি নতুন বই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দিনটি বই উৎসব হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।

শিক্ষা অফিস সূত্র আরো জানায়, জেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী ও দাখিল পর্যায়ে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। এর মধ্যে প্রাথমিকে ১৮৪৬টি সরকারী বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয় মিলে ২৫৬৯ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৪ লাখ, ১০৬৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৫৯টি দাখিল ও ইবতেদায়ী মাদরাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ।

দিনাজপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, জেলায় মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১০৬৪টি। এর মধ্যে ৫৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয় ৩৫টি, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০০টি, দাখিল মাদরাসা ও ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে ৩৫৯টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪ লাখ।

এসব শিক্ষার্থীর জন্য ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৫১২টি বই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির জন্য ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮টি বই, এসএসসি ভোকেশনাল ৮৫ হাজার ৩১০টি, কারিগরি ট্রেডের জন্য ৩২ হাজার ৮০৯টি, ইবতেদায়ী মাদরাসায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৪টি, দাখিল মাদরাসায় ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮১টি ও দাখিল ভোকেশনালের জন্য ৬ হাজার ৬১০টি বই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

চাহিদা অনুযায়ী রোববার (২৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত প্রায় ৯৫ ভাগ বই ১৩টি উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতরণের জন্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। আর যেসব বই এখনো আসতে বাকী রয়েছে সেগুলো ২/১ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের (বাংলা স্কুল) প্রধান শিক্ষক মো. সমসের আলী জানান, তার বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ বই পৌঁছে গেছে। এছাড়া দিনাজপুর সদর উপজেলার কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লোকমান হাকিম জানান, তিনি এ যাবত প্রায় ৯৫ ভাগ বই পেয়েছেন। প্রাপ্ত এসব বই ১ জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আর যেসব বই এখনো আসেনি তা ২/১ দিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে তারা জানান।

এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, জেলায় মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৫৬৯টি। এর মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮৫৪টি। এছাড়া ইংরেজী মাধ্যম বিদ্যালয়, কমিউনিটি বিদ্যালয়, পরিবীক্ষন বিদ্যালয়, এনজিও বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, রক্স বিদ্যালয়, বেসরকারী বিদ্যালয় ও অন্যান্য বিদ্যালয় মিলে আরো ৭১৩টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪ লাখ। এসব শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ লাখ ৯১ হাজার ০৩১টি বইয়ের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

চাহিদা অনুযায়ী সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত প্রাথমিকের শতভাগ বই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পৌঁছে গেছে। প্রাপ্ত এসব বই জেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে বিতরণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে।

বাংলা, ইংরেজী, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান, ইসলাম ধর্ম শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম, খৃষ্টান ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষাসহ প্রাথমিকের ৯টি বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে জানায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র আরো জানায়, বর্তমান সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। আর এ জন্যই নতুন বছরের শুরুতে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ভোকেশনাল এবং মাদ্রাসার ইবতেদায়ী, দাখিল ও দাখিল ভোকেশনাল শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বিতরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুর শহরের পুলহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মো. জাকির হোসেন ও হরিপরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এখতিয়ার হোসেন জানান, আমরা এরই মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সব শ্রেণির বই পেয়েছি। আগামী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে তারা জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য