নীলফামারীতে শিল্প ও বাণিজ্যমেলায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঠাঁই মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নীলফামারী জেলা শাখার ব্যবসায়ীরা মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেও কোন কর্ণপাত করেননি নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষ।

নীলফামারীর দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি পিজন অপটিক্যাল মালিক মোঃ ইয়াছিন আলী, লাবনী ভ্যারাইটিজ ষ্টোর রিপন মিয়া, কেয়া স্টোরের মালিক শ্রী অনিল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন আমরা অনেক আন্দোলন করেও বাণিজ্য মেলাটি স্থানান্তর করেননি চেম্বার অব কমার্স। অভিযোগে আরো বলেন চারটি মার্কেটের সামনে শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলা।

এ মেলা প্রতিবছরে হওয়াতে আমাদের ছোট জেলা শহর নীলফামারী ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সরজমিনে মেলায় গিয়ে জানা যায় মেলার মূল স্থানে নীলফামারী স্থানীয় স্টল মাত্র চারটি আর বাকী ১৩১টি ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মেলার রং ঢং দোকান মালিক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন মেলাটি ১৫ লাখ টাকার লিজ হয়।

চড়া দামে লিজের কারণে আমাদের দোকান মালিকদের প্রতিদিন দোকান প্রতি ১ হাজার থেকে ২ হাজার করে টাকা দিতে হয়। মেলার ব্যবসায় শারামনি এন্টার প্রাইজের (ঢাকা) মালিক মোঃ ওয়াসিম মিয়া ও রিয়া কালেকশন (সৈয়দপুর) মালিক শ্রী মিন্টু চন্দ্র সরকার, ঢাকা চটপটি হাউস ইমন মিয়া বলেন প্রতিদিন দোকান প্রতি আমাদের ১ হাজার থেকে ২ হাজার করে টাকা দিতে হয়।

অন্য বছরের চেয়ে এবার আমাদের বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। দর্শনার্থীরা অভিযোগ করে বলেন মেলায় প্রবেশ মূল্য দশ টাকা ও খেলা ধুলায় ত্রিশ টাকা করে নেয়ায় আমাদের নীলফামারী জেলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অনেক কষ্টকর। দর্শনার্থী রুবিনা আক্তার (বাবরীঝাড়), দর্শনার্থী এরশাদ মিয়া(খোকশাবাড়ী), নুরজাহান বেগম (পুরাতন স্টেশন) তারা অভিযোগ করে বলেন প্রতিবছরের চেয়ে এবার মেলায় প্রবেশ মূল্য খেলা-ধুলার টিকিট ও দ্রব্যমূল্যের দাম অনেক চড়া।

আমাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি, খেলা ও টিকিটের মূল্য দশ টাকা করলে সাধ্যের মধ্যে হত। এ বিষয়ে নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ- ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মারুফ জামান কোয়েলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মেলায় স্থান না পাওয়ার বিষয়ে কথা বললে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খালেদ রহীমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন ১৫ ডিসেম্বর মেলা শুরু হয়ে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আরো পনের দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। স্থানীয় দোকান মালিক সমিতির স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমারা শুধু আইন শৃঙ্খলা বিষয়টি দেখব আর অন্য কিছু জানি না।

উল্লেখ্য, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা চালান ফরমের মাধ্যমে জমা করে মেলার আবেদন করে নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি লিঃ। এ মেলায় নিয়ম অনিয়ম নিয়ে সংবাদ কর্মীদের মাঝে ধোয়াশা কাটানোর লক্ষে নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন তথ্য অধিকার আইনে ক ফরম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে গত ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার একটি আবেদন করেন, যাহার স্মারক নং- ২০-২৬০০৮।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য