আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ মালিবাড়ি গ্রামের কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ি ইছা মিয়ার দাদন ব্যবসা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর খপ্পরে পড়ে ওই এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক অসহায় পরিবার বিপন্ন।

কুপতলা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব জহির উদ্দিনের পুত্র রাসেল মিয়াকে ৩ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে এখন ইছা মিয়া ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। টাকার দাবিতে উক্ত দরিদ্র কৃষক রাসেল মিয়া ও তার পিতা আলহাজ্ব জহির উদ্দিনকে উক্ত দাদন ব্যবসায়ি হত্যা, গুমসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলার উকিল নোটিশ প্রদান করেছে। এমনকি তার জমি ও বসতবাড়ি জোর পূর্বক লিখে নেয়ারও পায়তারা চালাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে ওই পরিবারটি বুধবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তার অসহায় পিতা জহির উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহির উদ্দিন উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ মালিবাড়ি গ্রামের কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ি ইছা মিয়া দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় দাদনের ব্যবসার পাশাপাশি নানা রকম প্রতারণা ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানী করে আসছে।

দীর্ঘদিন ধরে দাদন ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছে ইছা মিয়া। এরই এক পর্যায়ে সম্প্রতি ইছা মিয়ার কাছ থেকে কুপতলা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব জহির উদ্দিনের ছেলে রাসেল মিয়া ঢাকায় কাজে যাওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা দাদন নিয়ে পরিবারের খরচের জন্য দিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাসেল কাজের একপর্যায়ে ঢাকা থেকে এলাকায় এসে দাদন ব্যবসায়ি ইছা মিয়াকে সুদাসলে ৭ হাজার টাকা বুঝে দেয়।

এতদসত্ত্বেও সে রাসেলের কাছে সুদসহ ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে ইছা মিয়া স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করার জন্য ঋণ নিয়ে দেয়ার কথা বলে রাসেলকে ঢাকা থেকে বাড়িতে ডেকে আনে। এরপর জনতা ব্যাংক লক্ষ্মীপুর শাখায় নিয়ে গিয়ে রাসেলের নামে ৫শ’ টাকা দিয়ে একটি ব্যাংক একাউন্ট (নং ০১০০১০৪৪২৩৩৮২) খুলে দেয়।

পরে সুকৌশলে ইছা মিয়া একটি চেক বই ইস্যু করে নিয়ে প্রতিটি পাতায় রাসেলের স্বাক্ষর নেয়। এসময় ব্যাংক একাউন্ট খোলার কথা বলে প্রতারণা করে একটি সাদা কাগজেও রাসেল মিয়ার টিপ ও স্বাক্ষর নেয়।

পরবর্তীতে চেক বইয়ের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকার অংক বসিয়ে ইনসাফিসিয়েন্ট ফান্ড হবে জেনেই উক্ত ব্যাংকে টাকা তুলতে যায় ওই দাদন ব্যবসায়ি ইছা মিয়া। এরপর ইছা মিয়া রাসেলের পিতা জহির উদ্দিন ও তার ছেলে রাসেলের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর ওই চেকের বলে উকিল নোটিশ পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাসেল মিয়া, আফরোজা বেগম, আব্দুল জলিল, খাজা মিয়া, আব্দুল আজিজ, মামুন মিয়া প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য