দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরল পৌরসভা নির্বাচনে শেষ মুহুর্তে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা মার্কার সমর্থক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বরশি মার্কার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারপিট ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৫ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টায়। নৌকা মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব সবুজার সিদ্দিক সাগর অভিযোগ করেন বরশি মার্কার সমর্থকরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে হিন্দুদের হুমকী প্রদান করার সময় বিরল উপজেলা যুব লীগের সভাপতি আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিবাদ করায় বরশি মার্কার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকার সমর্থকদের মারপিট করে।

এসময় নৌকার সমর্থক মারুফ আক্তার, হেলাল ও শামসুল হকসহ কয়েকজন আহত হয়। এদিকে বরশি মার্কার প্রার্থী শফিকুল আজাদ মনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আলহাজ্ব সবুজার সিদ্দিক সাগরের ভরাডুবি নিশ্চিত হয়ে পড়েছে এ আশংকায় সমর্থকরা ক্ষুদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তার সমর্থকরা রাত ১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আমার বাড়িতে এসে হামলা চালায় ও আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।

এসময় আমার বাড়িতে অবস্থানরত জেলা ছাত্র লীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক আসাদুজ্জামান রুবেল ও আবুল কালাম বাধা দিতে গেলে তাদেরকে বেধরক মারপিট করে। এসময় করয়েকজন আহত হয়। আশংকাজনক অবস্থায় ২জনকে এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিনাজপুরে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন পৌরবাসীর সমর্থন হারিয়ে অর্থের বিনিময়ে ভোট সংগ্রহের চেষ্টার কারনেই উত্তেজনা বাড়ছে।

বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার কারনে মনিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে এখন আওয়ামী লীগের কেউ নয়। এদিকে সফিকুল আজাদ মনি দাবী করেন সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কার করার কোন এখতিয়ার নেই। এখনও আমি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বহাল।

দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, আহত আবুল কালাম রক্ত বমি করেছে। তার মাথা ও চোখে প্রচন্ড আঘাত। রুবেলের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বিরল হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, মারুফসহ ৩ জন ভর্তি রয়েছে।

অপরদিকে বিরল থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, নৌকা ও বরশির সমর্থকদের মধ্যে সেেন্দহের ঘটনা নিয়ে সামান্য মারপিট হয়েছে। কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত (বিকেল ৪টা ২৬ ডিসেম্বর) মামলা দায়ের করেনি। তবে বরশি মার্কা এজেন্ট বাবুল হোসেন জানান নির্বাচন আচরন বিধি লঙ্ঘন ও প্রার্থীকে হুমকী ও হত্যার চেষ্টার ঘটনায় রির্টানিং অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
সার্বিক ভাবে বিরল পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে ভোটারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য