আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। অভিযুক্ত এক শিক্ষককে ভর্তি কমিটির সদস্য করায় মেধার মুল্যায়ন নিয়ে এ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০৫ সালে গণিত শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মোহসীন আলী।

নিজ এলাকায় চাকরির সুবাদে বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে চালাচ্ছেন ভর্তি ও একাডেমিক কোচিং বাণিজ্য। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশেই ভর্তি কোচিং চালু করেছেন তিনি।

দীর্ঘ এক যুগ একই স্কুলে চাকরি ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে তাকেই বারবার করা হয় বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার সহকারি হল সুপার। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনৈতিক সুযোগ প্রদান করেন তিনি। তার কোচিং বা প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা বিত্তবান পরিবারের হলেও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেন। একারণে টাকা বেশি খরচ হলেও শিক্ষার্থীরা মোহসীন আলীর কোচিং বা প্রাইভেটে ভিড় জমায়।

গত ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের সময় হাতেনাতে মোহসীন আলীকে আটক করে বহিস্কার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাবে পরের বছর খেকেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে অভিভাবকদের দাবি। শুধু একাডেমিক পরীক্ষায় নয়, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় কেন্দ্রে বিশেষ সুযোগ দানের মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কক্ষে তাদের আসন বিন্যাস করে কক্ষ পরিদর্শকদের মাধ্যমে সুযোগ দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রের দাবি।

তারা জানান, ভর্তিতে মোহসীন আলীর কোচিংয়ের কোনো শিক্ষার্থী বাদ পড়ে না। মেধাবী কিংবা কম মেধাবী সবাই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে যায়। তার কোচিংয়ের বাইরে মেধাবীরাও ভর্তির সুযোগ পায়না বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। তারা দাবি করেন, এ ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব তার হাতেই থাকে। কোচিং বাণিজ্য করতেই প্রতি বছর বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য হন মোহসীন আলী।

অভিভাবক জিবন ও আনোয়ার হোসেন বলেন, তাদের ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় ভাল ভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার মতই মেধাবী। কিন্তু মোহসীন মাস্টারের কোচিংয়ে না দেয়ার কারনে অপেক্ষমান তালিকায় তাদের রাখা হয়েছে। অপেক্ষার পর ভর্তির সুযোগ পেলে মোহসিনের কোচিং বা প্রাইভেটে পড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা। শিক্ষক মোহসীন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার কোন কোচিং নেই।

ছোট ভাই মোকছেদুলের কোচিংয়ে মাঝে মধ্যে ক্লাশ নেন। ভর্তি পরীক্ষার সদস্য হিসেবে অনৈতিক কিছু করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভব শংকর রায় জানান, মোহসীনের কোচিংয়ের বিষয়টি তার জানা নেই। কোন পরীক্ষায় অনৈতিক সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার কোচিংয়ের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য