কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ কাহারোলে ১৩৩টি চালকলের মধ্যে ধানের অভাবে ১১৮টি চালকল ও চাতাল বন্ধ হওয়ায় চাতালের কাজে জড়িত শ্রমিকদের চলছে এখন দূর্দিন। দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা চালকল গুলো ধানের অভাবে চালকল ও চাতাল বন্ধ থাকছে বছরে অর্ধেক সময়েই।

এর ফলে এই পেশায় নিয়োজিত প্রায় ১ হাজার ৫ শত শ্রমিক-কর্মচারীর অধিক আজ বেকার হয়ে অতি কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা অতিবাহিত করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে চালকল মালিকদের বিপুল অংকের অর্থ লোকশান গুনতে হচ্ছে। চালকল মালিক সুত্রে জানা যায়, ইরি-বোরো মৌসুমের পর বর্তমানে আমন মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হলে চালকল গুলোতে রাত দিন অবিরাম ভাবে চলে ধান সিদ্ধ করা, শুকানো ও ভাঙ্গানোর কাজ।

বর্তমানে এর চিত্র উল্টো দিক লক্ষ্য করা গেছে । এই সময়ে কাহারোল উপজেলার সদর সহ ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক যোগে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাল পাঠাত চালকল মালিক বা চাল ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে এখন চাল পাঠাতে পাচ্ছে না চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

কেন না আগের মতো পর্যাপ্ত ধান সরবরাহ আর নেই, যদি বা ধান পাওয়া যায় ধানের মূল্য বেশী হওয়ায় এবং তেমন কোন লাভ থাকে না। কাহারোল উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে জাত ভেদে মোটা ধান ৯শত ৭৫ থেকে ১হাজার ৫০টাকা মূল্যে আর চিকন জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১৪ শত ৫০ টাকা থেকে ১৫ শত ৬০ টাকা দরে।

ধানের মূল্যের কারণে অনেক চালকল ব্যবসায়ী ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্য ব্যবসায় নেমে পড়েছে। কাহারোল উপজেলা গড়েয়া হাট চালকল মালিক মোঃ সমশের আলী,মোঃ ফজলুর রহমান,লঙ্কেশ^র রায় সহ অনেকেই জানান, চালকল ও চাতালে লোকশান দিতে দিতে পুজি শেষ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে চাতাল ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

একই গড়েয়া হাটের রফিক হাসকিং চালকল ও চাতালের কাজ করা শ্রমিক স্বামী পরিত্যক্তা মোছাঃ আকতারা বেগম জানান, আগে যে টাকা প্রতিদিন রোজগার হতো এখন তা হচ্ছে না। ৩ ছেলে মেয়েকে নিয়ে দিন চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অপরদিকে মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া জানান, তারা শুধু ধান শিদ্ধ করা শুকানো ও ভাগানোর কাজ করে থাকেন।

তারা বলেন আগে চালকল ও চাতালে কাজ করে প্রত্যেক দিন এক এক জনের আয় হতে ৩ শত থেকে ৪ শত টাকা এছাড়াও চালকল হতে চালের খুদ ও গুড়া মিলতো। তা দিয়ে খাওয়া চলতো। কিন্তু এখন পেটের ভাত জোগাড় করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে শ্রমিকেরাও অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাহারোল উপজেলার চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, চাল কল ও চাতালের ব্যবসা এখন নেই বললেই চলে। কারণ ধানের দাম অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য