গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মাঠে ময়দানে এখন হলুদ রঙ্গের সরিষা ফুলের চোখ ধাঁধাঁনো বর্ণিল সমারোহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মৌমাছির গুণ-গুণ শব্দে ফুলের রেনু থেকে মধু সংগ্রহ দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর।

গত বন্যার কারণে উপজেলায় রোপা-আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা মাঠে-মাঠে রবি শস্যের আগাম চাষ করেছেন। সরকার কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ, সার, বীজ বিনামূল্যে যথাসময়ে বিতরণ করায় এলাকার অসহায় কৃষকদের পক্ষে আগাম জাতের সরিষা বপন করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি রবি মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেওয়ায় এবং সরিষা চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা এই সরিষা যথা সময়ে ঘরে তুলতে পারলে এবং বিক্রয় মূল্য ভালো পেলে বন্যার কারণে রোপা-আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১ পৌর এলাকায় ৬’শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। শুরুতে সরিষা ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আনা-গোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার কারণে সরিষা ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককের মাঝে সরকারিভাবে মান সম্পন্ন সরিষা বীজসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে ৩ হাজার ১শ ৫০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়।

উপজেলার চরাঞ্চল বেলকা, দহবন্দ, শ্রীপুর, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ রাশেদুল ইসলাম জানান, ১৫টি ইউনিয়নে কৃষকরা বিগত বছরের তুলনায় এ বছর জমিতে রস বেশি থাকায় যথা সময়ে সরিষা চাষ করতে পারেননি। তবে যে পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ করেছেন তার ফসল বাম্পার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য