বড় দিনের আনন্দ ক্ষণে বিশ্বের মানুষ যাতে বাস্তুচ্যুত লাখো অভিবাসীর কষ্টকে উপেক্ষা না করে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শরণার্থীদের পরিস্থিতিকে পোপ তুলনা করেছেন মেরি আর জোসেফের বিড়ম্বনার সঙ্গে। বাইবেল থেকে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সেই গল্প, যখন মেরি আর জোসেফ নাজারাথ থেকে বেথেলহেমে এসে কোথাও আশ্রয় পাচ্ছিলেন না।

রোববার ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় বড়দিনের আগের রাতের প্রার্থনায় উপস্থিত খ্রিস্টের অনুসারীদের সামনে পোপ বলেন, বহু মানুষ আজ ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশান্তরে বাধ্য হয়েছে সেই সব শাসকদের ভয়ে, যারা নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরানোর মধ্যে দোষের কিছু দেখে না।

সোমবার বড় দিনের সকালে ভ্যাটিকানের প্রার্থনাসভাতেও ভক্তদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন পোপ ফ্রান্সিস।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছর আগে লাতিন আমেরিকা থেকে প্রথম পোপ নির্বাচিত হওয়া ৮১ বছর বয়সী ফ্রান্সিস নিজেও একজন ইতালীয় অভিবাসীর নাতি। রোববার রাতের প্রার্থনায় তিনি বলেন, জোসেফ আর মেরির পদাঙ্কে মিশে আছে আরও বহু মানুষের পদচিহ্ন।

“লাখো মানুষের পায়ের চিহ্ন এই পথে দেখি, যারা স্বেচ্ছায় অভিবাসী হয়নি। তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, প্রিয়জনকে পেছনে ফেলে তাদের পা বাড়াতে হয়েছে।”

১২০ কোটি রোমান ক্যাথলিকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ফ্রান্সিস মনে করিয়ে দেন, যিশুতে যে বিশ্বাস এনেছে, সে অবশ্যই বিদেশিদের স্বাগত জানাবে, তা সে বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক না কেন।

পোপ ফ্রান্সিস যে তার অনেক পূর্বসূরির মত কট্টর মনোভাব পোষণ করেন না, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়ে। বিশ্বের দুই কোটি ২০ লাখ অভিবাসীর অধিকারের প্রশ্নে সব সময়ই তিনি সরব ছিলেন। গত বছর তিন ধর্মের শরণার্থীদের পা ধুয়ে চুমু খেয়ে তিনি আলোচনার জন্ম দেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে দমন পীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিজের চোখে দেখতে নভেম্বরের শেষে ও ডিসেম্বরের শুরুতে মিয়ানমার আর বাংলাদেশ সফর করেন পোপ। সে সময় ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের কাছ থেকে তাদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শুনে তাকে অশ্রু লুকানোর চেষ্টা করতে হয়।

ওই অনুষ্ঠানে পোপ বলেন, ঈশ্বরের উপস্থিতি রোহিঙ্গা রূপেও বিরাজমান।

আর রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে পোপ বলেন, “যারা তোমাদের ওপর পীড়ন চালিয়েছে, যারা তোমাদের আঘাত করেছে, তাদের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাইছি। তোমাদের মহৎ হৃদয়ের কাছে আমার আবেদন, আমাদের ক্ষমা কর।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য