আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটে যৌতুক লোভী স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে কাৎরাচ্ছেন গৃহবধূ রোকসানা খাতুন। অভিযোগ রয়েছে, যৌতুক না পেয়ে ওই গৃহবধূকে তার স্বামী নির্যাতন করেছেন। বৃহস্পতিবার ( ২১ ডিসেম্বর) সকালে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের মৌজা শাখাতী গ্রামে।

নিযার্তনের শিকার ওই গৃহবধূ এখন হাতীবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোকসানা খাতুন হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব সির্ন্দুনা গ্রামের আব্দুল লতিফ খন্দকারের মেয়ে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে তার স্বামী ও শাশুড়ি দুই জন মিলে রোকসানাকে নির্যাতন শুরু করেন। স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে রোকসানার মাথা ফেটে যায়। তাদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি তার দুই বছরের শিশু রিমিও।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করান। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রমজান আলী জানান, রোকসানা খাতুনের মাথা ফেটে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে সুস্থ করতে সময় লাগবে। এছাড়া তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

নির্যাতনের শিকার রোকসানার ভাবি আকলিমা খাতুন বলেন, তিনি এ ঘটনায় বাদী হয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর শনিবার কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ করায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। নির্যাতিত রোকসানা খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার স্ত্রীর কি ভাবে মাথা ফাটলো তা তিনি কিছুই জানেন না।

তার স্ত্রীর তার কথা মতো চলা ফেরা করেন না বলে তিনি দাবি করেন। কালীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘রোকসানা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নিযার্তনের শিকার গৃহবধূ রোকসানা খাতুন জানান, ৩ বছর পূর্বে তার সাথে কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের মৌজা শাখাতী গ্রামের ফজলুল হকের পুত্র আব্দুর রাজ্জাকের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। বিয়ের পর সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন চললেও তাদের সংসারে কন্যা জন্ম নেয়ায় তার ওপর স্বামী ও শাশুড়ীর নির্যাতন শুরু করে।

কারণে অকারণে চলে তার উপর অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতন করে আরও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তার স্বামী। ওই যৌতুকের টাকা দিতে তার পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ নিয়ে একাধিক বার গ্রাম্য শালিস হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য