বীরগঞ্জ সংবাদাতাঃ শত শত বছর পূর্বের বিভিন্ন পৌরনিক কাহিনি সমৃদ্ধ শামুক শাহ জিন্দা পীরের মাজার। যেখানে মানত আর শিন্নি দিয়ে মনোবাসনা পুরন হবে এই আশায় ধর্মবর্ননির্বশেষে হাজার হাজার মানুষ বাংলা মাসের ১৯ অগ্রহায়নে এখানে আসে। আর এই আসা থেকে মেলা বসে যেটা জিন্দাপীরের মেলা নামে পরিচিত। এখনও দুর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের মুখরিত হয়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী জিন্দা পীরের মাজার এলাকা।

হাজার হাজার হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই সময়ে আসে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামে এ জিন্দা পীরের মাজার এর অবস্থান।

ফটকের সামনো টাঙ্গানো বোর্ড থেকে জানা যায়, শামুক শাহ একজন কামেল আউলিয়া ছিলেন। তিনি পশ্চিম থেকে এ এলাকায় এসে ইসলাম প্রচার করেন। তিনি একদিন তার অনুসারীদের বলেন যে, তোমরা আমাকে জীবিত অবস্থায় কবর দিবে। আর ৮দিনের দিন আমাকে কবর থেকে উঠাবে। অনুসারীরা ৮দিনের দিন তাঁকে কবর থেকে উঠায়নি। একদিন দেরী করার কারণে দেখা যায় কবরের পাশ থেকে অনেক রক্ত বের হয়ে আসছে।

ভক্তরা আর তাকে কবর থেকে উঠায়নি। তথন থেকে ওই জিন্দাপীর মাজারের গোরাপত্তন হয়। বর্তমান মাজার ও এর সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃক পরিচালিত হয়। শামুক শাহ জিন্দাপীর ওয়াকফ এস্টেটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

এই ওয়াকফ এস্টেটের আওতাধীন শামুক শাহ জিন্দাপীর মাজার ভবন, চৌপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জিন্দাপীর বাজার, জিন্দাপীর জামে মসজিদ ও জিন্দাপীর দারুস সালাম মাদ্রাসা রয়েছে।

ওই এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম জানায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে শুনে আসছি এই জিন্দাপীরের মাজারের কথা। তবে সঠিক দিনক্ষন কেউ বলতে পারেনি। মরহুম শামুক শাহ জিন্দাপীরের পুরো নাম হচ্ছে-শাহ মাকসুদ শাহ। তার মৃত্যুর পর এই জায়গাটাসহ মাজার এলাকাকে তৎকালীন এই এলাকার জমিদার প্রিয়নাথ দাস চৌধুরীর আমলে ২৬ একর জায়গা ওয়াকফ করা হয়।

জিন্দা পীরের মাজার এর নামে অনেক জায়গা বেদখল হয়েছে। আমরা শুনেছি বাংলা ১২২৬ সালের দিকে ৮ অগ্রহায়নে কামেল আউলিয়া চৌপুকুরিয়া ছোট রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। এমন সময় রাস্তার পাশে কয়েকজন ঢুলি ঢোল নিয়ে বসে আছেন। এ সময় ঢুলির সাথে কথোপকথন হয় এবং একজন ঢুলির একটা ঢোল ফেটে যায়। তারপরে পীর সাহেবের পিঠে ছাপ দেখা যায়। তাই ওই ঘটনাকে স্মরন করে রেওয়াজ আছে প্রতি অগ্রহায়ন মাসের ৮ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ জিন্দাপীরের মেলার প্রচারনা করা হয়। আর প্রতিবছরই ১৯ অগ্রহায়ন জিন্দাপীরের মাসব্যাপী মেলা বসে।

চৌপুকুরিয়া গ্রামের আবু সাঈদ সরকার টিটিন আরাজী জানায়, কবরে তাঁকে রাখার পর অনুসারীরা না উঠায় তখন নির্দ্ধারিত দিনের পরের দিন কবরের পাশ থেকে রক্ত বের হয়ে আসে। আর এ সময় সৃষ্টি হয় পাশে একটি পুকুর। যেটি এখনো রয়েছে। এই পুকুরের পানি শুকায়না। অনেকদিন যাবত মানুষ এই পুকুরের পানি ব্যবহার করতো বিভিন্ন মানত করে। এমনটি গবাদি পশুর কোন অসুখ হলে এই পানি পান করিয়ে সুস্থ্য হতো। এরপর যারা এই মাজারে বিভিন্ন মানত বা শিন্নি দিতে আসত তারা এই এলাকায় ওই পানি ব্যবহার করে রান্নাবান্না করে ফকিরদের খাওয়াতো। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য