01 mushfiqসাকিব আল হাসানের ব্যাটিং বীরত্বের পরও হার দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে তারা। টুর্নামেন্টে এটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জয়। অন্য দিকে সুপার টেনে চার ম্যাচেই হারল বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৫৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৭ ওভার ৩ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে অ্যারন ফিঞ্চের ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে উঠে। দ্বাদশ ওভারে ওয়ার্নারকে বোল্ড করে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার আল-আমিন হোসেন। ৩৫ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪৮ রান করা ওয়ার্নারকে ফেরানোর পর আল-আমিনের উচ্ছ্বাসটা ছিল দৃষ্টিকটু। মাঠেই দুই আম্পায়ার সতর্ক করেন তরুণ এই পেসারকে। সোহাগ গাজীর বলে ব্যক্তিগত ৪১ রানে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী হয়েও আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বেঁচে যাওয়া ফিঞ্চ ফেরেন ৭১ রানে। আল-আমিনের বলে চমৎকার ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান নাসির হোসেন। ফিঞ্চের ৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। অভিষেকে প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৫ দিয়ে চমৎকার শুরু করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। নিজের চতুর্থ ওভারে গ্লেন ম্যক্সওয়েলকে বোল্ড করে একটি উইকেটও পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই পেসার। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও জর্জ বেইলি বাকি কাজটুকু সহজেই সেরেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে আল-আমিন ২ উইকেট নেন ৩০ রানে। এর আগে চতুর্থ ওভারে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলে ফেরা নাথান কোল্টার-নাইলের করা দ্বিতীয় ওভারে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে প্রথম স্লিপে শেন ওয়াটসনের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এনামূল হক। পরের ওভারে ফিরে আবার সাফল্য পান কোল্টার-নাইল। এবার ফিরিয়ে দেন তামিম ইকবালকে। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিডঅফে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। আগের ম্যাচেই তিন নম্বরে ফিরেছিলেন সাকিব, এবার চার নম্বরে ফিরলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মাত্র ১২ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারালেও তৃতীয় উইকেটে সাকিব, মুশফিকের ১১২ রানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। সুপার টেনে এর আগে কোনো অর্ধশত রানের জুটি ছিল না বাংলাদেশের। এ দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এ আসরে প্রথম শতরানের জুটি পেল বাংলাদেশ। ৭৮ বলে সাকিব-মুশফিকের ১১২ রানের জুটি তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ১০৯ রানের। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ রান করেছিলেন আফতাব আহমেদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল। শেন ওয়াটসনের বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের হাতে ধরা পড়ার আগে ৪৭ রান করেন মুশফিক। তার ৩৬ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। চলতি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে অর্ধশতক পাওয়া সাকিব থেমেছেন ৬৬ রানে। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার চতুর্থ অর্ধশতক। সাকিবের ৫২ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায়। পঞ্চম উইকেটে নাসির হোসেন ও মাহমুদুল্লাহর ১৫ বলে ২০ রানের জুটিতে দেড়শ’ পার হয় বাংলাদেশ। ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কোল্টার-নাইল অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৫ (তামিম ৫, এনামূল ০, সাকিব ৬৬, মুশফিক ৪৭, মাহমুদুল্লাহ ৬*, নাসির ১৪; কোল্টার-নাইল ২/১৭, স্টার্ক ১/২৫, ওয়াটসন ১/২৫, বোলিঞ্জার ১/৩১)

অস্ট্রেলিয়া: ১৭.৩ ওভারে ১৫৮/৩ (ফিঞ্চ ৭১, ওয়ার্নার ৪৮, হোয়াইট ১৮*, ম্যাক্সওয়েল ৫, বেইলি ১১*; আল-আমিন ২/৩০, তাসকিন ১/২৪)।

ম্যাচসেরা: অ্যারন ফিঞ্চ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য