আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী (নুরী, পিতা নুর মোহাম্মদ) কে শুক্রবার সন্ধ্যায় একই এলাকার বখাটেরা গণধর্ষণ করেছে।

ওইদিন রাতেই পুলিশ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোহাগ মিয়া (২৩), বাবু মিয়া (২২) ও শরিফুল ইসলাম (২১) নামে তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে। অপর দুই ধর্ষক রুবেল মিয়া (২২) ও খুশু মিয়া (২৩) পলাতক রয়েছে।

সাদুল্যাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাত্রীটি তার মায়ের সাথে নলডাঙ্গা বাজারে যায় কাপড় কিনতে। কাপড় কেনার পর মেয়েকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান তার মা। এরপর মেয়েটি হেঁটে একাই বাড়ি ফিরছিল।

পথে সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় আসলে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের খামার দশলিয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা দুদু মিয়ার বখাটে ছেলে সোহাগ মিয়া তার পথরোধ করে। পরে জোর করে অপর সহযোগী একই ইউনিয়নের কিশামত হামিদ গ্রামের মাহফুজ রহমানের ছেলে বাবু মিয়া, খামার দশলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শরিফুল, দশানি গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে খুশু মিয়া ও পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে রুবেলের সহযোগিতায় ওড়না দিয়ে মেয়েটির মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে।

সেখান থেকে রেললাইনের ধারে আখ ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটির চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং হাতেনাতে শরিফুল ও বাবুকে আটক করে। পরে রেল গেটের যুবলীগ নেতা দুদু মিয়ার কনফেকশনারীর দোকান থেকে তার ছেলে সোহাগকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এসময় রুবেল মিয়া ও খুশু মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্থানীয় লোকজন ধর্ষিত মেয়েটিকে উদ্ধার করে সাদুল্যাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ ধর্ষিত মেয়েটিকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করায়। এদিকে রাতেই বিক্ষুব্ধ জনতা এই ধর্ষণের প্রতিবাদে নলডাঙ্গা এলাকায় ধর্ষকদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাৎক্ষনিক মিছিল করে ও দুদু মিয়ার কনফেকশনারীর দোকানটি ভাংচুর করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য