আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: জামাই এসে বড় বড় মাছ কিনে নিয়ে যাবে শ্বশুর বাড়িতে। দুপুরে খেয়ে বিকেলে আবার যাবেন পিঠা মেলায়।

এজন্যই লালমনিরহাটের বড়বাড়িতে দ্বিতীয় বারের মতো বসেছে তিন দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী বউ-জামাই মেলা। লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাসেম মহাবিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

এ মেলা উদ্বোধনের দিনই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মেলায় শতাধিক মাছের আড়ত ও পিঠা বিক্রির স্টল রয়েছে। এই ব্যতিক্রমী মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থী ভিড় করছেন।

শুধু তাই নয়, এ মেলা উপলক্ষে সদর উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে এসেছে মেয়ে ও জামাই। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মৎস্য খামারি ও ব্যবসায়ীরা এ মেলায় অংশ নেন। নতুন প্রজন্মকে বড়-বড় বিভিন্ন প্রকারের মাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এ মেলার প্রধান উদ্দেশ্য বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

শুক্রবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। মেলা উদ্বোধনের পরপরই এ অঞ্চলের মানুষ সেজগুজে সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। তারা মাছ ও পিঠা কিনছেন। ক্রেতারা বলছেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছি এ মেলায় পিঠা ও মাছ কিনতে, কিন্তু বিক্রেতারা মাছ ও পিঠার দাম হাকাচ্ছে বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, সামুিদ্রক মাছের দাম আড়তেই বেশি।

এ কারণে পরিবহন খরচসহ আমাদের একটু বেশি দাম নিতে হচ্ছে। এসব মাছ প্রতিকেজি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি না করলে লাভ হবে না। আর পিঠা বিক্রেতারা বলছেন, সব জিনিসেরই দাম বেশি। তাই পিঠার দামতো একটু বেশি হবেই। তবে দাম যাই হোক, মেলায় আসা বউ-জামাইরা পছন্দ মতো মাছ ও পিঠা কিনে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুল বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে বউ-জামাই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য