বাড়তি ওজন কমাতে ইচ্ছুক প্রায় সকলের কাছ থেকেই একটি সাধারণ ও পরিচিত অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পরপর প্রচ- ক্ষুধাভাব তৈরি হয় বলে খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। এই সমস্যাটি আরও বেশী বেড়ে যায়, যখন ওজন কমানোর জন্য অল্প পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করা হয়ে থাকে। দেখ গেছে, সাধারণত একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি ৩-৪ ঘন্টা পরপর ক্ষুধাভাব অনুভব করেন।

এই সমস্যাটির মূল কারণ সঠিক খাদ্যাভাস না গড়ে তোলা। যেমন: সকালের নাস্তায় দুটো রুটি ও একটি ডিম খাবার পরিবর্তে খালি পেটে শুধু একটি আপেল খেলে ঘন্টাখানেক সময়ের মাঝেই প্রচ- ক্ষুধাভাব দেখা দেবে। এর ফলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য বেশী পরিমাণে গ্রহণ করা হয়ে যায়। যার ফলে, ওজন কমার পরিবর্তে বাড়তি ওজন তৈরি হয়।

তাই, যদি আপনি বাড়তি ওজন কমাতে ইচ্ছুক হন এবং একই সাথে নিজের বাড়তি ক্ষুধাভাবকে নিয়ন্ত্রণের মাঝে রাখতে চান তবে জানা প্রয়োজন কোন খাদ্য উপাদানগুলো গ্রহণ করতে হবে। যা প্রাকৃতিকভাবে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে লম্বা সময় নিয়ে এবং শরীরে পুষ্টি জোগাবে।

স্যুপ
অনেকেই হয়তো স্যুপ খেতে পছন্দ করেন না বা ক্ষুধাভাব দেখা দিলে স্যুপ খেতে চাইবেন না। কিন্তু স্যুপ একইসাথে পেট ভরা রাখতে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে থাকে। বিকাল-সন্ধ্যার নাস্তায় সবজি ও মুরগীর মাংশের স্যুপ ক্ষুধাভাবকে কমিয়ে আনে। যদি আপনি দুপুর কিংবা রাতের প্রধান খাবার হিসেবে খেতে চান তবে স্যুপে সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। অথবা স্যুপে কিছু পরিমাণ নুডলস যোগ করে নিতে পারেন এবং সাথে একটি রুটিও খেতে পারেন।

বাদাম
যে কোন ধরণের বাদাম তো বটেই বিশেষ করে কাঠবাদাম ক্ষুধাভাবের প্রাবল্য কমাতে খুব ভালো কাজ করে থাকে। ছোট এক বাটিতে একসাথে কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, ওয়ালনাট প্রভৃতি একসাথে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সান্ধ্যকালীন নাস্তা। বাদাম খাবার ফলে পেট অনেক ভরা থাকে। যার ফলে অকারণে হুটহাট ক্ষুধাভাব দেখা দেয় না। তবে একটি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত ক্ষুধাভাব দেখা দিলে বাদাম এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, বেশী ক্ষুধাভাবের ফলে প্রয়োজনের চাইতেও বেশি পরিমাণে বাদাম খাওয়া হয়ে যাবে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ও পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর।

ওটস
ওজন যারা কমাতে ইচ্ছুক তাদের জন্যে ওটস সবচেয়ে উপকারী একটি খাদ্য। বিশেষ করে সকালের নাস্তায় ওটস এর বিকল্প কিছু নেই। ওটস খাওয়ার ফলে বাড়তি মেদ ও ওজন কমে এবং অনেক লম্বা সময় ধরে কোন ক্ষুধাভাব তৈরি হয় না। ওটসে থেকে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় আঁশ। যা বেটা-গ্লুক্যানস নামে পরিচিত। এই আঁশ কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খাদ্য পরিপাক ধীর গতির করতে সাহায্য করে থাকে। যে কারণে, সকালের নাস্তায় ওটস খাওয়ার ফলে দুপুরের আগ পর্যন্ত ক্ষুধাভাব একেবারেই দেখা দেয় না। এতে করে বাড়তি কোন খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পরে না।
পানি পান

পানি
একজন পূর্নবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্ষমতা চালু রাখার জন্য এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ সমূহ বের করে দেবার জন্য প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পরিমাণ পানি পান করা আবশ্যক। পানি পানের ফলে সেটা পরিপাক হবার কোন ব্যাপার নেই একেবারেই। তবে ক্ষুধাভাব দেখা দিলে একগ্লাস পরিমাণ পানি পান করার ফলে ক্ষুধাভাব অনেকটাই কমে যায় তাৎক্ষণিকভাবে।

দই
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল ধরণের খাদ্য উপাদানের মাঝে দই বেশ জনপ্রিয়। দইয়ের অগণ্য গুণের মাঝে রয়েছে ক্ষুধাভাব কমানোর প্রবণতা। দইয়ে থাকে শরীরের জন্য উপকারী প্রোটিন। যার ফলে, দইয়ের সাথে ফল মিশিয়ে খেলে সেটা একইসাথে স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী হবে এবং ক্ষুধাভাব নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও সুবিধা হবে।

কলা
দুপুরের খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই যদি আপনি ক্ষুধাভাব অনুভব করেন তবে একটি পাকা কলা খেয়ে ফেলুন। কলাতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর শর্করা। যা পুনরায় খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছাকে দমন করে এবং শরীরের মেটাবলিজমের মাত্রা বৃদ্ধি করে। চাইলে দইয়ের সাথে মিশিয়েও কলা খাওয়া যেতে পারে।

মিষ্টিআলু
ওজন কমানোর যাত্রায় মিষ্টিআলু সত্যিকার অর্থেই মিষ্টিময় হতে পারে! বিশেষ করে, হুটহাট প্রচ- ক্ষুধাভাব দেখা দিলে সেই ক্ষুধাভাব কমানোর ক্ষেত্রে। মিষ্টিআলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা ক্ষুধাভাবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। মাঝারী সাইজের একটি মিষ্টি আলুতে রয়েছে ৪ গ্রাম পরিমাণ আঁশ। যা ক্ষুধাভাবকে কমাতে দারুণ কার্যকরি। অন্যান্য সবজির সাথে দুপুর কিংবা রাতের খাবারে স্বাচ্ছন্দ্যে মিষ্টিআলু খেতে পারবেন আপনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য