ফিলিপিন্সে একটি ক্রান্তীয় ঝড় আঘাত হানার পর ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন।

এসব ঘটনায় আরো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছে পুলিশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

অধিকাংশ মানুষ শুক্রবার রাতে এসব দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। হতাহতদের সবাই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ মিন্দানাওয়ের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন তারা।

টুবোড শহরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “একটি কৃষি প্রধান গ্রাম ভূমিধসের নিচে চাপা পড়েছে সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।”

ওই এলাকার বৈদ্যুতিক ও টেলিযোগাযোগ লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার প্রচেষ্টায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টি সুলু সাগর থেকে শক্তি সঞ্চয় করছে এবং ৮০ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার দুপুরের মধ্য ঝড়টি সাগরটি পার হয়ে যেতে পারে এবং সোমবারের মধ্যে ফিলিপাইন্সের সীমানা ছেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

ঝড়ের পর জীবিতদের খুঁজে বের করা, আবর্জনা পরিষ্কার করা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য জরুরি বিভাগের কর্মী, সৈন্য, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিভিন্ন এলাকা থেকে নিহতদের বিষয়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। এসবের মধ্যে লানাও দেল নোর্তে প্রদেশের টুবোড, এল সালভাদর ও মুনাই শহরে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।

জামবোয়াঙ্গা দেল নোর্তে প্রদেশের পুলিশ জানিয়েছে, ‍সিবুকো শহরে ৩০ জন ও সালুগ শহরে ছয়জন নিহত হয়েছেন।

বুকিদনোন প্রদেশে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে লানাও দেল সুর প্রদেশের রাজনীতিকরা জানিয়েছেন, তাদের এখানে সাতজন আকস্মিক বন্যায় ডুবে মারা গেছেন।

পুলিশ ও কর্মকর্তাদের দেওয়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে মোট ৬৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

প্রতি বছর ফিলিপাইনে প্রায় ২০টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ধ্বংস ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দরিদ্র লোকজনই এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার বেশি হন।

গত সপ্তাহে দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা অপর এক ঘূর্ণিঝড়ে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য