বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে ভোটাভুটির যে ফলাফল এসেছে তা আমেরিকার জন্য বড় পরাজয়। ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন, মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্লেন ডাইজেন ।

গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মুকাদ্দাসে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য বৃহস্পতিবার মিশরের তোলা একটি প্রস্তাব নিয়ে বিশেষ জরুরি অধিবেশনে বসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল- বিপুল ভোটে এ প্রস্তাব পাস হবে।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মার্কিন সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে হুমকি দেয় এবং যেসব দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সতর্ক করে। তারপরও জাতিসংঘ সনদের ৩৭৭ ধারার অধীনে তোলা প্রস্তাবটি ১২৮ ভোটে পাস হয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে আমেরিকা ও ইসরাইলসহ মাত্র নয়টি দেশ ভোট দিয়েছে। আর ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ।

আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ব্রিটেনসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। এছাড়া, সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেশটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এর আগে গত সোমবার একই প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হয়েছিল কিন্তু আমেরিকা তাতে ভেটো দেয়ায় প্রস্তাবটি পাস করা সম্ভব হয় নি। তবে প্রস্তাবের পক্ষে বাকি ১৪ সদস্যের সবাই ভোট দিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার প্রস্তাব পাস সম্পর্কে মার্কিন বিশ্লেষক গ্লেন ডাইজেন বলেন, “সাধারণ পরিষদের ভোটের ফলাফল পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে, বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে আমেরিকা একঘরে হয়ে পড়েছে। অতএব, এটা হচ্ছে আমেরিকার জন্য বড় পরাজয়। বিভিন্ন দেশকে হুমকি ধমকি ও সাহায্য বন্ধের ভয় দেখানোর পরও তারা তা আমলে নেয় নি।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য