উত্তর জনপদের একটি গ্রামীণ উপজেলা কাউনিয়া। এ উপজেলার নিভৃত পল্লী পূর্বচান্দঘাট গ্রাম। গ্রামটি রংপুর শহর থেকে ৩০ কিঃ মিঃ দূরে হলেও এ গ্রামের মানুষ গুলো দেশী হাইব্রিড জাতের মাছ চাষ করে অর্জন করে নিয়েছে অফুরœন্ত সুনাম। গ্রামের আয়াতন ছোট আর লোক সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার। তবুও সবাই মিলে চাষ করে নানা জাতের মাছ।

উপজেলার ৬৯টি মৎস্য খামারের মধ্যে ৪১টি মৎস্য খামার এবং ৪ হাজার ১১৭ টি পুকুরের মধ্যে ৫৯০ টি পুকুর হলো এ গ্রামে।এবং ৩ হাজার ১০৪ জন মৎস্য চাষীর মধ্যে ৪৩২ জন মৎস্য চাষীর বাস ওই গ্রামে। মাছ চাষ নিয়ে কথা হয় এ গ্রামের বাসিন্দা রংপুর জেলার শ্রেষ্ঠ মতস্য চাষী আঃ ছোবহানের সাথে। তিনি বলেন এ গ্রামের ৭০ ভাগ মানুষ মাছ চাষে জড়িত।

ময়মনসিংহ থেকে মাছের পোনা এনে ২০০৪ সালে তিনি পরীক্ষা মূলক ভাবে হাইব্রিড মাছ টাষ শুরু করেন। কেউ হাইব্রিড কেউ দেশী আবার কেউ বা পোনা মাছ উৎপাদন করে দেশে মাছের চাহিদা মিটাচ্ছেন। অপর মৎস্য চাষী শফিকুল ইসলাম জানান, মাছ চাস করে হামরা এখন অনেক স্বাবলম্বী। তিনি জানান তার নিজের ও লীজ নেয়া ৬টি মাছের খামার আছে।

সেখানে ভিন্ন ভিন্ন খামারে পাঙ্গাশ, হাইব্রিড কই,শিং,মাগুর, গোলষা ও পাবদা মাছ রয়েছে। হাইব্রিড মাছ বছরে জ্জ বার বাজার জাত করা যায় তাই একটি এক একর জমির পুকুরে যে কোন হাইব্রিড মাছ চাষ করে বছরে ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। একই গ্রামের অপর মৎস্য চাষী আউয়াল মিয়া জানান এ গ্রামের মানুষের মাছ কাওয়ার কোন সমস্যা নেই। যাদের পুকুর বা খামার নেই তারা মাছ ধরার সহোযোগিতা করে উপহার স্বরুপ মাছ পায়।

এ গ্রামের মৎস্য চাষের সফলতা শুনে গ্রামটির মাছ চাষ খামার গুলো দেখতে ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতি মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। সেটা ২০১৬ সালের কথা। তার আগমনের পর গোটা উপজেলায় ওই গ্রামের মৎস্য চাষ সবার কাছে ঈর্শনীয় হয়ে যায়। এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনজুর আলমের সাথে।

তিনি জানান মাছ চাষে ওই গ্রাম এখন উপজেলার মডেল। পূর্বচান্দ ঘাট গ্রামে মাছ চাষের ব্যাপকতার কারণে কাউনিয়ায় বর্তমমানে মাছ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন। এসব মাছের বাজার উপজেলা ও জেলার বাইরে লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরেও রয়েছে। তিনি আরও বলেন ওই গ্রামের অনেক মানুষ মৎস্য চাষ করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়ে নিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য