ভারতে টু-জি স্পেকট্রাম দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তরা আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক ও. পি. সাইনি এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেন।

ভারতে বৃহত্তম এ দুর্নীতি মামলার রায়ের প্রভাব পড়েছে সংসদ ভবনেও। রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ এ ব্যাপারে সরকারিদল বিজেপিকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানান। এরপরেই কংগ্রেস এমপিরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিয়ে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম বেঙ্কাইয়া নাইডু সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ ও আনন্দ শর্মার কাছে বারবার তাদের এমপিদের আসনে বসতে বলার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। কিন্তু ক্ষুব্ধ সদস্যরা তাতে শান্ত হননি।

গুলাম নবী আজাদ বলেন, যে দুর্নীতির অভিযোগে তাদের সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল সেই দুর্নীতি আদতে হয়ই নি! তিনি বলেন, ‘বিজেপি’র ওই সকল নেতাদের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত, যারা কংগ্রেস মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে দেশবাসীকে বোকা বানিয়েছিলেন। বিজেপিকে এ ব্যাপারে জবাব দেয়া উচিত।’

গুজরাট নির্বাচনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মনমোহন সিং সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভুয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলেও গুলাম নবী আজাদ মন্তব্য করেন।

সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় অবশেষে চেয়ারম্যান এম বেঙ্কাইয়া নাইডু সভার অধিবেশন বেলা ২ টা পর্যন্ত মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন। দুপুর ২ টার পরে পুনরায় সভার কাজ শুরু হলে কংগ্রেস এমপিরা বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকলে আগামীকাল (শুক্রবার) বেলা ১১ টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সাবেক ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার টু-জি স্পেকট্রাম দুর্নীতির অভিযোগে সেসময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপি সোচ্চার হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

আজ ডিএমকে নেতা ও কেন্দ্রীয় সাবেক টেলিকম মন্ত্রী এ রাজা, ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝিসহ ১৭ অভিযুক্তকে আদালত বেকসুর খালাস করে দেয়। টু-জি স্পেকট্রাম বণ্টনে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলেও আদালত সাফ জানিয়ে দেয়। (কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা) সিবিআই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার তথ্য প্রমাণ দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও আদালত জানায়।

আজ আদালতের রায় ঘোষণার পর দিল্লি ও চেন্নাইতে ডিএমকে সমর্থকরা প্ল্যাকার্ড বহন করে, আতশবাজি পুড়িয়ে ও মিষ্টি বিলি করে ব্যাপক আনন্দ উচ্ছাসে মেতে ওঠেন।

সাবেক টেলিকম মন্ত্রী এ রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি মোটা টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোন সংস্থাকে এয়ারওয়েভ ও লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছিলেন। এরফলে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

২০১০ সালে ওই ইস্যুতে বিরোধীদের চাপে এ রাজাকে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে হয়। ২০১১ সালে এ ব্যাপারে আদালতে মামলা শুরু হয়।

ডিএমকে নেতা দুরাই মুরুগান বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিল, যা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ‘বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই ইস্যুতে ভুল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। এবার তাদের ওই ইস্যুতে কথা বলা বন্ধ করা উচিত।’

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি’র সিনিয়র নেতা অরুণ জেটলি বলেছেন, আদালতের রায় সম্পর্কে তদন্ত এজেন্সি বিবেচনা করবে। কংগ্রেস যেন আদালতের রায়কে প্রমাণপত্র না মনে করে।

বিজেপি’র নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী ওই রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য