ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও আরও একমাসের জন্য ইয়েমেনের প্রধান বন্দর হোদেইদাহ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। গত মাসে রিয়াদের বিমান বন্দরে একই ধরনের হামলার অভিযোগে ইয়েমেনের সব প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছিল জোটটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার হুথি বিদ্রোহীরা সানার ইয়ামামা প্রাসাদ লক্ষ্য করে বুরকান-২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে সৌদি জোট ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই বিধ্বস্ত করে দেয়। তবে রাজ পরিবারের এক সদস্য নিশ্চিত করেন, ওই সময় প্রাসাদে একটি বৈঠক চলছিল। এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য জানায়নি সৌদি আরব।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ’র বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলার বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে সৌদি জোট। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়েমেনের জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা চালু রাখা আগ্রহের পাশাপাশি কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা থাকায় দেশটির হোদেইদাহ বন্দর চালু রাখা হবে।’

এসময় বন্দরটি দিয়ে শুধু মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সরবরাহ করতে দেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ দূতের প্রস্তাব অনুযায়ী আরও ৩০ দিন জ্বালানি ও খাদ্যবাহী জাহাজ ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। লোহিত সাগরে অবস্থিত হোদাইদাহ বন্দরটি ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রধানপথ।

বন্দর খোলা রাখার মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা তার বিস্তারিত কিছুই জানায়নি সৌদি বার্তা সংস্থাটি। তবে হুথি বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোর নজরদারি বাড়াতে জাতিসংঘের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে জোটটি।

সৌদি জোটের অভিযোগ, নভেম্বরে রিয়াদে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের পাঠানো। আর গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, মিসাইলগুলো ইরান সরবরাহ করেছে বলে তাদের কাছে প্রমাণ আছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ত্রাণের নামে হুখিদের কাছে অস্ত্র পাঠানো হতে পারে বলে দাবি করছিল সৌদি জোট। একারণে গত মাসে বন্দরটি বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি জোট। এতে দেশটিতে খাদ্য, জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দেয়। পরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে বন্দরটি খুলে দিতে রাজি হয় জোট।

আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে সুন্নিপন্থী সৌদি আরব ও শিয়াপন্থী ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছে। ইয়েমেন ও লেবাননকে ‘ছায়াযুদ্ধে’র মঞ্চ বানিয়েছে দুই দেশ। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে ইরান এবং দেশটির নির্বাসিত প্রেসিডেন্টের পক্ষে যুদ্ধ করছে সৌদি আরব। ২০১৪ সাল থেকে চলা যুদ্ধে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য