জেরুজালেম ইস্যু নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) এই দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়।

বর্ণবাদী সংগঠন ব্রিটেন ফার্স্টের টুইট রিটুইট করা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে থেরেসার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এটাই তাদের প্রথম আলাপ বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই আলাপনের খবর নিশ্চিত করা হলেও জেরুজালেমের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়নি।

৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদ জারি রয়েছে।

তার কিছুদিন আগে থেকে বর্ণবিদ্বেষী টুইট রিটুইট করা নিয়ে ট্রাম্প ও থেরেসার মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। তবে জেরুজেলেম প্রশ্নে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছিলেন এই ব্যাপারে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন। অবশেষে ১৩ দিন পর হলো সেই আলাপ।

ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, ‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতির প্রশ্নে আমরা যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছি তা নিয়ে তারা (ট্রাম্প ও থেরেসা) আলোচনা করেছেন। শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন এবং এই প্রচেষ্টার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের গুরুত্বের ব্যাপারে একমত হয়েছেন তারা।’

সিএনএন জানায়, এই ফোনালাপের খবরটি নিশ্চিত করলেও হোয়াইট হাউস জেরুজালেম ইস্যুটির উল্লেখ করেনি। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেন ও ব্রেক্সিট ইস্যুর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প ও মে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বিদেশি নেতাদের মধ্যে মে-ই প্রথম হোয়াইট হাউস সফর করেছিলেন। তবে গত নভেম্বরে তিনটি মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিওকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে এ দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়। ব্রিটিশ উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠী ‘ব্রিটেন ফার্স্টের’ পোস্ট করা তিনটি মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও রিটুইট করেছেন ট্রাম্প। আর ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে বুধবার ট্রাম্পের ওই কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন থেরেসা মে। এ পদক্ষেপকে ‘ভুল হিসেবে আখ্যা দেন। আর তাতে ক্ষোভ জানান ট্রাম্প।

নতুন টুইট করে ট্রাম্প থেরেসাকে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমার দিকে নজর দিয়েন না, যুক্তরাজ্যে বিরাজমান ধ্বংসাত্মক কট্টর ইসলামি সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন।’

উগ্র-ডানপন্থি ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা ২০১১ সালে ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ গোষ্ঠীটি তৈরি করেন। যে ভিডিওগুলো ট্রাম্প শেয়ার করেছিলেন সেগুলো ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ গোষ্ঠীর উপনেতা জায়দা ফ্রানসেনের পোস্ট করা। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম শরণার্থী ক্রাচে ভর দিয়ে থাকা এক ওলন্দাজ বালককে আঘাত করছে। এরকম আরও দুটি ভিডিও টুইট করেন ফ্রানসেন। সেগুলোর একটিতে দেখা যায় এক দল লোক এক বালককে ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে এবং আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন ভার্জিন ম্যারির ভাস্কর্য নষ্ট করছে। দুটি ভিডিওতেই আক্রমণকারী ব্যক্তিদেরকে মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই ভিডিওগুলোই রিটুইট করেন ট্রাম্প।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য