সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পাকিস্তানী নাগরিককে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক দেখিয়ে ভুমি দশ্যুরা অন্যের ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় ৫৩ শতক জমি রেজিষ্ট্রি নিয়ে জবর দখলের চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে দলিলে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ ব্যবহার করে করেছে ভুমি দশ্যুরা।

ওই জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের সুজালপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ওয়ারিশ ছেলে আশিকুর রহমান অপু সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে এই অভিযোগ করা হয়।

তিনি অভিযোগ করে আশিকুর রহমান অপু বলেন, আমাদের এয়াজ বদল দলিল মুলে প্রাপ্ত বীরগঞ্জের সুজালপুর মৌজার জে,এল,নং-৬৮, খতিয়ান নং- এস,এ-৮৬, দাগ নং-৩৮৬ এর ৫৩ শতক ডাঙ্গা জমি আমরা ১৯৮০ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছি। ওই জমি মাঠ জরিপেও বিএস, খতিয়ান রেকর্ড আমাদের নামে হয়েছে।

কিন্তু ভুমি দশ্যু একই উপজেলার চাকাই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মোঃ দুলাল হোসেন ও একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মোঃ হাকিম, বীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে পেশীশক্তির বলে জমি জবর দখল করতে চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আশিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ৬ ডিসেম্বর’১৭ উপরোক্ত ভুমি দশ্যু মোঃ দুলাল হোসেন ও মোঃ হাকিম অপরিচিত কিছু লাঠিয়াল লোকজন নিয়ে আমাদের ভোগদখলীয় এই জমি দখল নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের দাবী ওই জমি তারা মোঃ মীর সলিমুল্ল্যাহ’র কাছ থেকে রেজিষ্ট্রি মুলে ক্রয় করেছে।

পরবর্তীতে আমরা রেজিষ্ট্রি অফিসে অনুসন্ধান করে জানতে পারি ভুমি দশ্যু মোঃ দুলাল হোসেন ও মোঃ হাকিম গং ওই জমি মোঃ মীর সলিমুল্ল্যাহ, পিতা মৃত মীর আব্দুল মান্নান, সাং সুজালপুর, উপজেলা বীরগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ১৯৬২২৭২১৮০১০০২০৬৮ (দলিল থেকে প্রাপ্ত) এর কাছ থেকে ক্রয় করেছে। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জমি দাতা মোঃ মীর সলিমুল্ল্যাহ’র বীরগঞ্জের ঠিকানা সত্য হলেও স্বাধীনের পর তিনি পাকিস্তানে চলে গেছেন এবং তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহন করেছেন। তবে ভুমি দশ্যু মোঃ দুলাল হোসেন ও মোঃ হাকিম গং দলিল সম্পাদনের সময় মোঃ মীর সলিমুল্ল্যাহ’র নামে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও বীরগঞ্জ পৌরসভার ভূয়া জন্ম সনদ এবং ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জাল রশিদ ব্যবহার করেছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রির বিষয়টির তদন্ত ও জমি দখলের বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসান ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আশিকুর রহমান অপু বলেন, এয়াজ বদল দলিল মুলে প্রাপ্ত ভোগদখলীয় এই জমিতে যদি বৈধ কোন ওয়ারিশ থেকে থাকেন তাহলে তিনি বৈধ পন্থায় আমাদের কাছে তার বৈধতা প্রমান করলে আমরা তার ন্যায্যতা ফিরিয়ে দিব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য