দিনাজপুর সংবাদাতাঃ মুজিব নগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন ১ এর চেয়ারম্যান তৎকালীন এমপিএ আওয়ামী লীগ নেতা এম.আব্দুর রহিম ১৯৭১ সালে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় সামরিক গার্ড অব অর্নার প্রদান করেন মিত্র বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভাট্টি ও কর্ণেল শমসের সিং এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল।

মরহুম এম.আব্দুর রহিমের স্মৃতিকে ধারণ করে গতকাল ১৮ ডিসেম্বর সোমবার এম.আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের আয়োজনে দিনাজপুরে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল ভাদু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.আব্দুল লতিফ, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, এম.আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের সভাপতি এ্যাড.আজিজুল ইসলাম জুগলু, কার্যকরী সভাপতি সফিকুল হক ছুটু, সাধারন সম্পাদক চিত্তঘোষ, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু বক্কর সিদ্দিক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল ইসলাম, দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ কান্তা রিমি রায়, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরুপ কুমার বকশী বাচ্চু, সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজু।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী ও সাবেক কমান্ডার মোকাদ্দেস হোসেন বাবলুর নেতৃত্বে জাতীয় পতাকাকে সালাম জানানো হয়।

এরপর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম.আব্দুর রহিমের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান, আওয়ামী লীগ, দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর প্রেসক্লাব, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জেলা ও শহর মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ ও যুব-ছাত্র ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধাঞ্জলী জানায়। বিকেল ৩টায় এম.আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের সভাপতি এ্যাড.আজিজুল ইসলাম জুগলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, এম.আব্দুর রহিমের সততা, নীতি, আর্দশ, রাজনৈতিক বৈশিষ্ঠ্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুসরণীয়। আলোচনা সভা চলাকালীন পিতার স্মৃতিকে ধারন করে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি তার পিতার মত জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, আমার পিতা এদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন, সেই পতাকা মাথায় নিয়ে আমি এদেশের জনগনের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গিত করেছি। আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী জান্নাত এ ফেরদৌসি লাকীর জাগরনের গান ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে স্বাধীকার আন্দোলন ও মরহুম এম.আব্দুর রহিমের ভূমিকাকে ধারন করে সঙ্গীত পরিবেশন করে মঞ্চকে মাতিয়ে তোলেন।

এসময় উদীচীর শিল্পীরা দেশের গান পরিবেশন করেন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনাজপুর বিএমএ, ডায়াবেটিক, মেডিসিন, সন্ধানী রক্তদান কর্মসূচি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার আয়োজন করেন। রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়। উলে¬খ্য, এম.আব্দুর রহিম পশ্চিম জোন-১ এর জোনাল চেয়ারম্যান ছিলেন।

তার অধীনে ১১২টি রিলিফ ক্যাম্প, ১২টি যুব অর্ভ্যথনা শিবির, ৬টি মুক্তিযোদ্ধ ক্যাম্পসহ ১টি মুক্তিযোদ্ধা বাছাই ক্যাম্প ছিল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় অঞ্চল পুর্নগঠনে আত্মনিয়োগ করেন এবং ত্রান ও পূর্নবাসন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। মরহুম এম.আব্দুর রহিম যোগ্য পিতা হিসেবে যোগ্য সন্তান রেখে গেছেন জৈষ্ঠ্য পুত্র বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, তার ৪ কন্যার মধ্যে ২ কন্যা চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য