মিয়ানমারে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে আটকসহ সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুয়েতেরেস। তিনি বলেন, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে দুই সাংবাদিককে আটকের ঘটনা বার্তাই দিচ্ছে যে, দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে।’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুয়েতেরেস আটক দুই সাংবাদিকের মুক্তির জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের নাজুক মানবাধিকার পরিস্থিতিই এখন উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ। রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের বিষয়টির সঙ্গে সাংবাদিক আটকের ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন গুতেরেস।

ইয়াঙ্গুনে আটক দুই সাংবাদিক হলেন ওয়া লোন ও কিয়া সো ও।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এই ঘটনা জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে এখন পর্যন্ত সেখানে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।

মিয়ানমার বারবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিককেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও দেখা যায়নি এমন কোনও সংবাদ। মিয়ানমারের সংবাদপত্র ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের তথ্যানুসারে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের একটি মানচিত্র এবং সেনাবাহিনীর একটি প্রতিবেদন পাওয়ায় আটক করা হয়েছে ওয়াও লোন ও কিয়া সো কে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ১৪ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য