ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছে ইরান থেকে অস্ত্র আসছে বলে নিজেদের করা অভিযোগের পক্ষে প্রথমবারের মতো আলামত উপস্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন কিছু অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ উপস্থাপন করে এগুলো ইরান থেকে সরবরাহকৃত বলে দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই অভিযোগ আবারও নাকচ করে দিয়ে ইরান বলছে, প্রমাণ হিসেবে যেসব আলামত হাজির করা হচ্ছে তা সাজানো।

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আর এ সামরিক অভিযানের জবাবে গত ২২ জুলাই ও ৪ নভেম্বর সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হুথিরা। অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই তারা আকাশে থাকতে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির অভিযোগ, ইরান থেকেই ইয়েমেনের হুথিদেরকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও অভিযোগ, সৌদি আরবে গত মাসে ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান সরবরাহ করেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কিছু পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ উপস্থাপন করা হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, এগুলো ৪ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে ইযেমেন থেকে ছোঁড়া ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ। স্বল্প পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের তৈরি বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ইয়েমেন থেকে সৌদি সরকারের উদ্ধার করা একটি ড্রোন ও একটি ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্রও উপস্থাপন করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, কখন অস্ত্রগুলো হুথিদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে এবং কখন তা ব্যবহার করা হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোথায় অস্ত্রগুলো তৈরি হয়েছে তার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।

জাতিসংঘে নিয়োজিত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি ওয়াশিংটনের কাছে একটি সেনা ঘাঁটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, অস্ত্রগুলো ইরানেরই তৈরি। তিনি বলেন, ‘এগুলো ইরানের তৈরিকৃত, ইরান থেকে পাঠানো এবং ইরানের দেওয়া।’

পেন্টাগন জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য