গ্রাম বাংলার গৃহ বধূঁর এক সময়ের ধান থেকে চাল তৈরীতে এ মাত্র মাধ্যম ছিলো উঁরণ গাইন। বদলে গেছে দিন আর পাল্টে গেছে সময়।

কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে বিশুদ্ধ চাল তৈরীর সেই সেই উঁরণ গাইন। বড় বট গাছের গুল আর শাল গাছের ডাল দিয়ে তৈরী হতো উঁরণ গাইন। এখন আর সেই বট গাছও নেই আর নেই শাল গাছের সেই শক্তিশালী ডাল। তা ছাড়া কালের বিবর্তনে উঁরণ গাইন এর স্থান দখল করে নেয় ঢেঁকি।

সেই ঢেঁকিও তার অস্তিত্ব হারিয়েছে অনেক আগে। সময়ের প্রয়োজনে বিজ্ঞানের বদৌলতে এসেছে চাল তৈরীর চাল কল। হঠাৎ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর পল্লি মারী গ্রামের মহির উদ্দিন মিয়ার বাড়ীতে দেখা মিলে বিলুপ্ত উঁরণ গাইন। অশীতিপর বৃদ্ধ মহির জানায় তাদের বাড়ীতে এটি আছে প্রায় ৬০ বছর ধরে।

তিনি জানান উঁরণ গাইনে তৈরী চালের রান্না করা ভাতের পুষ্টি গুণ অনেক বেশী। কিন্তু এখন আর সেই চালের দেখাই মেলে না। কাঁরা অকাঁরা দুই ধরনের চাল তৈরী হতো উঁরণ গাইনে। অকাঁরা চালে রান্না হতো গরম পান্তা আর কাঁরা চালে ভাত। সেই ভাতের স্বাদও ছিলো মন কারা। তিনি দুঃখ করে বলেন তার বাবার আমলের এই উঁরণ গাইনটি এখন জীবনের শেষ প্রান্তে।

এখন ওই উঁরণ গাইনে শুধু পিঠা তৈরীর আটা এবং চিড়া তৈরী করা হয়। জীর্ণ শীর্ণ সেই উঁড়নটি কোন রকমে বেঁছে থাকলেও গাইনটি অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে। হয়তো এভাবেই এক দিন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য উঁরণ গাইন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য