ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের ১১ এমপির বিদ্রোহের মুখে ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটে ব্রিটিশ সরকারের পরাজয় হয়েছে।

পার্লামেন্টের ভোটে সরকারের এই পরাজয়কে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের জন্য একটি ধাক্কা বলেই বিবেচনা করছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, খবর বিবিসির।

এই ভোটের মাধ্যমে ব্রাসেলসের সঙ্গে চূড়ান্ত ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোট গ্রহণের জন্য পার্লামেন্টকে একটি আইনি বৈধতা দিলেন ব্রিটিশ এমপিরা।

এর বিরোধিতা করে সরকার বলছিল, এটি করা হলে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কিন্তু শেষ মূহুর্তে বিদ্রোহীদের ছাড় দেওয়ার একটি উদ্যোগ সত্বেও বিলে একটি সংশোধনী আনার পক্ষেই বেশি ভোট পড়ে। ৩০৫ জন এমপি সরকারি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও বিপক্ষে ভোট দেন ৩০৯ জন।

তবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলেছেন, ‘ছোট এই বিপর্যয়’ ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

ক্ষমতাশীল রক্ষণশীল দলের যে সব এমপিরা সরকারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের মধ্যে আটজন ছিলেন সাবেক মন্ত্রী।

ভোটের পর তাদের মধ্যে স্টিফেন হ্যামন্ডকে রক্ষণশীল দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

‘দৃঢ় নিশ্চয়তা’ দেওয়ার পরও ব্রেক্সিট বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে এই পরাজয়ে ‘হতাশা’ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার। বেক্সিট নিয়ে এটিই তাদের প্রথম পরাজয়।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী লেবার দলীয় নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ইইউ সম্মেলনের আগে এই পরাজয় প্রধানমন্ত্রীর মের ‘কর্তৃত্বকে লজ্জাজনকভাবে খর্ব’ করেছে।

বৃহস্পতিবার ইইউর ওই সম্মেলনে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় নেতাদের বেক্সিট নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

মার্চ, ২০১৯ এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হবে তাই নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য