মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে এক জরিপ চালানোর পর আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানে ৪০০ জনের প্রাণহানির হয়েছে বলে মিয়ানমার সরকার দাবি করলেও এমএসএফ বলছে, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

সংস্থাটি বলছে, ব্যাপক সহিংসতার ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সহিংসতা থেকে বাঁচতে আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

দাতব্য সংস্থাটির জরিপে দেখা গেছে, ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাখাইনে সহিংসতার কারণে ৫ বছরের কম বয়সী ৭৩০ শিশুসহ ৬ হাজার ৭০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৬৯ শতাংশকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, নয় শতাংশকে তাদের বাড়িঘরের মধ্যে পুড়িয়ে মারা হয়েছে আর পাঁচ শতাংশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শিশুদের মধ্যে ৫৯ শতাংশকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ১৫ শতাংশ আগুনে আর সাত শতাংশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মারা গেছে আরো দুই শতাংশ।

এমএসএফ মনে করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সহিংসতার যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিসি) মামলা হতে পারে।

এমএসএফের মেডিকেল ডিরেক্টর সিডনি ওয়াং বলেন, যারা বেঁচে আছেন তারাও সহিংতার ভয়াবহতা নিয়েই বেঁচে আছেন। বর্বরতার শিকার এদের অনেকেই এখনো গুরুতর আহত।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধনের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য