দিনাজপুর সংবাদাতাঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম দেশে খাদ্য, শিক্ষাসহ কোন কিছুর সংকট নেই উল্লেখ করে বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভুতপুর্ব উন্নয়ন দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করেছে। এখন জনগনের সচেতনতা এ দেশকে সোনার বাংলা পরিনত করবে।

তিনি বলেন, খাদ্যে দেশ স্বয়ংসম্পুর্ন। শিক্ষায় ১৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ লাখ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। প্রতিবছর ৮ লাখ গ্রায়জুয়েট শিক্ষা লাভ করে বের হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ১৮০০ কোটি টাকা ও স্কুল থেকে কলেজ পর্যায়ের ক্ষেত্রে ২২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর লাখ লাখ টন ধান উৎপাদন হচ্ছে। কয়েক হাজার পুকুরে মাছ উৎপাদন হচ্ছে। কলা, আনারস উৎপাদনে দেশ ছেয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এইন অসাধারন উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আমাদের সক্রিয় ভুমিকা রাখতে হবে। জলবায়ু সহনশীল করে উৎপাদন করতে হবে।

মানব শরীরে ক্ষতিসাধন হয় এমন কেমিকেল ও হরমন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। উৎপাদনের ভেজাল সার, ইউরিয়ার কোন কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, কানাডাসহ পৃথিবীর বহু দেশে বছরে একটি ফসল উৎপাদন হয়। আমাদের দেশে একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদন সহ সারাবছরেই ফসল উৎপাদনে কৃষকরা ব্যস্ত থাকে। এই উৎপাদনকে ভেজাল মুক্ত ও জলবায়ু সহনশীল উৎপাদনে রুপ দিতে হবে। স্মরন রাখতে হবে উৎপাদনে ভেজাল হলে মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়বে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। মানসম্মত উৎপাদনে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।

১৩ ডিসেম্বর বুধবার ড. মু. আবুল কাসেম কারিতাস দিনাজপুর আঞ্চলিক অফিস মিলনায়তনে জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রকল্প কারিতাস দিনাজপুরের আয়োজনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে “নিরাপত্তা খাদ্য উৎপাদনে করণীয়” শীর্ষক এ্যাডভোকেসী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কারিতাস দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক যোগেন জুলিয়ানের সভাপতিত্বে মুল আলোচক ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল শারীরতত্ব ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর শ্রীপতি শিকদার। বক্তব্য রাখেন বিএডিসির উপ পরিচালক মোজাফর হোসেন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বেবি নাজনিন, গম গবেষনা কেন্দ্রের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আকবর হোসেন, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায় কৃষিবীদগন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনে ছিলেন কারিতাসের জেপিও হীরা লাল রায়। সেমিনার সভাপতি যোগেন জুলিয়ান জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ২১৩টি কৃষক পরিবারকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য