সিকি শতাব্দীর মধ্যে প্রথম কোনো ডেমোক্রেট হিসেবে আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডগ জোনস।

রিপাবলিকান প্রার্থী রয় মুরের সঙ্গে তিক্ত প্রচারণার পর তার এই ‘অপ্রত্যাশিত বিজয়’রিপাবলিকান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও বড় ধরনের শঙ্কার কারণ হল বলে মত বিশ্লেষকদের।

আলাবামায় এই জয় মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ডেমোক্রেটদের ব্যবধান (৫১-৪৯) আরেকটু কমে আসায় যে কোনো আইন পাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আগের তুলনায় এখন আরও শক্ত বাধার মুখোমুখি হতে হবে বলেই ধারণা তাদের, জানিয়েছে বিবিসি।

রিপাবলিকানদের ঘাঁটি বলে পরিচিত আলাবামায় ডেমোক্রেট প্রার্থীর জয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ডেমোক্রেট সমর্থকরা ।

গণমাধ্যমে জয়ের খবর আসার পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ৬৩ বছর বয়সী সাবেক আইনজীবী জোনস বলেন, পুরো নির্বাচনী দৌড় ছিল আদতে ‘মর্যাদা ও সম্মান বিষয়ে’।

“নির্বাচনী প্রচার ছিল আইনের শাসন নিয়ে, ছিল সাধারণ সৌজন্যবোধ ও শিষ্টাচার নিয়ে,” সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যে বলেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুতে জেফ সেশনস মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তার ছেড়ে দেওয়া সিনেট আসনে এই বিশেষ নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে রিপাবলিকান মুরকে প্রত্যাখ্যান করে আলাবামার ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শক্ত বার্তা দিলেন বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আলাবামার এই ফল ক্ষমতাসীনদের জন্যও অশনিসঙ্কেত। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতছাড়া হলে ট্রাম্পের জন্য দেশ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।

১৯৬৩ সালে বার্মিংহামে কৃষ্ণাঙ্গদের গির্জায় বোমা হামলা চালানো উগ্রবাদী সংগঠন কু ক্লুক্স ক্ল্যানের দুই সদস্যকে বিচারের মুখোমুখি করায় কৃতিত্ব দেওয়া হয় সাবেক আইনজীবী জোনসকে। ওই হামলায় চার কিশোরী নিহত হয়েছিল।

জোনস এর আগে কখনোই নির্বাচিত কোনো পদে ছিলেন না বলেও বিবিসি জানিয়েছে।

অন্যদিকে ‘মুসলমানরা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত নন’, ‘সমকামিতা যুক্তরাষ্ট্রে আইন করে নিষিদ্ধ করা উচিত’ এমন বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য আগে থেকেই সমালোচিত মুর নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচারণের অভিযোগে পিছিয়ে পড়েন।

মুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বেশ কয়েকজন নারী জানান, কিশোরী বয়সেই তারা রিপাবলিকান প্রার্থীর লালসার শিকার হয়েছিলেন।

জাতীয় পর্যায়েও তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করা এসব অভিযোগের কারণে প্রভাবশালী অনেক রিপাবলিকানও মুরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও ট্রাম্পের সমর্থনে শেষ পর্যন্ত লড়ে যান সাবেক এ বিচারক।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে জোনসের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। যদিও মুর বলছেন, গণনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে পরাজয় মেনে নেবেন না তিনি।

৭০ বছর বয়সী রিপাবলিকান এ প্রার্থীর ধারণা, নষ্ট হওয়া ভোটের পরিমাণ দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধানের চেয়ে বেশি হতে পারে, যা নির্বাচনী সংস্থাগুলোকে ভোট পুনরায় গুনতে বাধ্য করবে।

আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি জন মেরিল বলেছেন, দুই প্রার্থীর ব্যবধান মোট ভোটের আধা শতাংশেরও কম হলে ভোট পুনর্গণনা হবে।

মুর পরাজয় না মানলেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে ডেমোক্রেট প্রার্থীর জয়ের খবরে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

“দ্রুতই এই আসন ফিরিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ পাবে রিপাবলিকানরা,” অপর এক টুইটে এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য