কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই ‘যে কোনো সময়’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কথা বলতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আটলান্টিক পলিসি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

“আসুন একত্রিত হই, আপনারা চাইলে আবহাওয়া নিয়েও কথা হতে পারে,” বলেন টিলারসন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মন্তব্য কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জেরে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র; পাশাপাশি জাতিসংঘও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

তবে সেসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে পিয়ংইয়ং। যদিও এই প্রস্তুতি ‘যুদ্ধের নয়, আত্মরক্ষার’ বলে দাবি করে আসছে উত্তর কোরিয়া।

সম্প্রতি পিয়ংইয়ং সফর করে আসা জাতিসংঘের রাজনৈতিক প্রধান জেফ্রি ফেল্টম্যানও বলেছেন, যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব অনুভব করছেন উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারাও।

যুদ্ধ এড়াতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী রি ইয়ং হো এবং সহকারি মন্ত্রী পাক মিয়ং গুকের সঙ্গে ১৫ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ফেল্টম্যান বলেন, “আলোচনার দরজা আধখোলা অবস্থায় এসেছে। মধ্যস্থতার মধ্য দিয়ে আলোচনার দরজা এখন আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছি।”

ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন চরমে, চলছে ট্রাম্প ও উনের কথার লড়াইও।

আটলান্টিক পলিসি ফোরামের আলোচনায় টিলারসনও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত উত্তর কোরিয়াকে মেনে নেবে না’।

এরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নমনীয় করার ইঙ্গিত দেন।

“আপনারা যদি আলোচনায় বসতে জারি থাকেন তাহলে তা গোল কিংবা চারকোনা যে টেবিলেই আপনারা বসতে বেশি আগ্রহবোধ করবেন সেখানেই বসব।

“তারপর আমরা একটি ম্যাপের রূপরেখা তৈরি শুরু করতে পারি, একটি রোডম্যাপ, যা নিয়ে সম্ভবত আমরা একত্রে কাজ করতে রাজি আছি।”

অবশ্য পিয়ংইয়ংয়ের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপরও মত দেন তিনি। বলেন, ‘প্রথম বোমাটি না পড়া’পর্যন্ত এ চাপ রাখতে হবে।

উত্তর কোরিয়াকে সামলাতে চীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার এ বিষয়েও কথা বলেন টিলারসন। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চীন পদক্ষেপ নিলেও প্রেসিডেন্ট চান বেইজিং পিয়ংইয়ংকে তেল সরবরাহ বন্ধ করুক।

যুদ্ধ শুরু হলে উত্তর কোরিয়া থেকে ‘শরণার্থীদের আসার সম্ভাবনা’ নিয়েও চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

টিলারসনের এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থান, যে কোনো আলোচনার আগে পিয়ংইয়ংকে অবশ্যই অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, থেকে সরে এসেছে বলে ধারণা করেছিলেন পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু এর কয়েক ঘন্টা পর হোয়াইট হাউস জানায়, উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাবে ‘পরিবর্তন ঘটেনি’।

বুধবার উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন যুদ্ধপোকরণ শিল্পের এক সম্মেলনে তার দেশকে ‘বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর দেশে’ পরিণত করার ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি সম্প্রতি ছোড়া আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র হোয়সং-১৫ কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অ্যাখ্যা দেন বলে দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য