কুড়িগ্রামের উলিপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের জায়গা দখল করে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করায় তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দখলকৃত জায়গায় লাশ পোড়ানো (সৎকার) বন্ধ করে দেওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায় চরম বিপাকে পড়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার পান্ডল ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মালতিবাড়ি গ্রামে।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মালতিবাড়ি এলাকার মৃত খিরত চন্দ্র বর্মনের পুত্র যুধিষ্টি চন্দ্র বর্মন (৫৮) নিজ জমিতে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তির মৃত্যুরপর লাশ পোড়ানোর জন্য ২৬ শতক জায়গা শ্মশানের নামে ছেড়ে দেন। এর র্দীঘদিন থেকে এলাকার হিন্দু লোকজনের মৃত্যুরপর সেখানে লাশ দাহ করা হত। হঠাৎ করে যুধিষ্টি চন্দ্র বর্মন ও তার পরিবার ১ বছর পূর্বে কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

এর পর থেকে একই এলাকার হুরমত উল্যার পুত্র সামাদ মোক্তার শ্মশানের জায়গা নিজের বলে দাবী করে উচু জমি কেটে চাষাবাদ শুরু করেন এবং কিছু অংশে সুপারি গাছের চারা রোপন করে দখল করে নেয়। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে তিনি দাবী করেন যুধিষ্টি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে ওই জায়গা তাকে দলিল করে দিয়ে গেছেন। স্থানীয়রা তার কাছে দলিল দেখতে চাইলে তিনি কোন কাগজ পত্র দেখাননি।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা কুড়িগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ছাড়া শ্মশানের ২৬ শতক জমি সরকারের খাস খতিয়ানে অর্ন্তভূক্ত করার দাবী জানিয়ে, স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিস আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রমানাদিসহ উভয় পক্ষকে তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছেন।

স্থানীয় জয়নাল আবেদীন বলেন, এলাকার লোকজনের সহায়তা করতে গিয়ে সামাদ মোক্তার আমার জমি দখল করে নিয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি।

যুধিষ্টির বড় বোন চিন্তা মনি (৬২) জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থাকি ওই জমিত মরদেহ পোড়ায়, এলা কিছুদিন থাকি সামাদ মোক্তার মরা পোরবার দেয় না। গ্রামত মড়া পুড়বার জায়গা নাই, মইলে পুড়বে কোডে, সেই জায়গাটাও দখল করি নিলে। হামরা গুলা তো কিছু কবার সাহস পাইনা।

স্থানীয় বাসিন্দা গমির উদ্দিন (৮০), জীবন কৃষ্ণ রায় (৫০), মানিক চন্দ্র (৭০), নিধির চন্দ্র রায় (৫৭), স্বপন চন্দ্র বর্মন (৩৮) সহ অনেকে জানান, ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মৃত্যুর পর লাশ পোড়ানো হতো। গ্রামের সবাই জানে ওইটা মড়া (লাশ) পোড়ানোর জায়গা। কিন্তু হঠাৎ করে সামাদ মোক্তার ওই জায়গা দখল করে সেখানে মড়া পোড়ানো বন্ধ করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সামাদ মোক্তার ওই জায়গা নিজের দাবী করে বলেন, আমি পূর্ব মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। আমার দলিলের পূর্বে যদি কেউ শ্মশানের নামে দলিল দেখাতে পারে, তাহলে আমি জায়গা ছেড়ে দেব।

জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম ছানাল বকসী জানান, শ্মশানের জায়গা জবর দখল থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে স্থানীয়দের নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে ওই জায়গা দখল মুক্ত করা হবে।

উলিপুর থানার অফিসার অফিসার ইনচার্জ এস.কে আব্দুল্যা আল সাইদ বলেন, ওই এলাকার জমি দখলের অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য