রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্দেশ্যে নতুন গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহনে নানা হয়রানি থেকে বাঁচাতে মাইকিং করা হলেও অফিসেরই একটি চক্র বিদ্যুৎ মিটার দেয়ার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রাপ্ত অভিযোগ জানা গেছে, রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে পীরগঞ্জ সাব অফিসের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নানা কৌশলে মোটান অংক হাতিয়ে নিচ্ছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য,পীরগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে গ্রাহকদের মাঝে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন,তার সংযোগসহ নির্দিষ্ট ইলেক্ট্রিশিয়ানদের দিয়ে ঘর ওয়ারিং কার্যক্রম চলছে। গ্রাহকরা যাতে হয়রানি বা প্রতারনার শিকার হতে না হয় সে জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে। তারপরও বিভিন্নভাবেই সাধারন মানুষকে এক শ্রেণীর দালাল প্রতারনার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে,ওই সমিতির অধীনে পীরগঞ্জ সাব অফিসের আওতায় অফিসটির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিটার সংযোগ দেয়ার নামে বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয়ভাবে দালাল নিয়োগ করে সহজ-সরল মানুষের কাছে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই টাকা দিয়েও বিদ্যুতের মিটার সংযোগ না পাওয়ায় ২য় দফায় টাকা দিয়ে মিটার সংযোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আবার কেউ ওই অফিসে কিংবা দালালদের বাড়ীতে টাকা ফেরতের জন্য দিনের পর দিন হন্যে হয়ে ঘুরছে।

অভিযোগ উঠেছে,গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের মওয়াগাড়ী গ্রামের আলহাজ¦ আলিম উদ্দিনের পুত্র ইলেক্ট্রিশিয়ান আব্দুল মমিন মিয়া পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নিয়মিত উঠাবসা করে অফিসের কয়েকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। ওই সুযোগেই মমিন উপজেলা সদরের বেশকিছু বাড়ীতে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ দেয়ার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তাকে টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে হতাশ হবার পর পুনরায় অফিসে নতুন করে টাকা জমা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের জন্য এখন মমিনকে খুঁজেও পাচ্ছে না। বর্তমানে ওই মমিন উপজেলা সদরের খাদ্যগুদামের সামনে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করলেও বর্তমানে আর ওই বাসায় থাকেন না। উপজেলা সদরের ওসমানপুরের আব্দুল মাজেদ সরকার, আজিজার রহমান, রঞ্জু মিয়া, রিপু মিয়া, মাকসুদা বেগম, ছয়েস উদ্দিন, হযরত আলী, মামুনুর রশিদ, নেছার উদ্দিন জানায়, বিদ্যুতের মিটার সংযোগের জন্য আমরা প্রত্যেকে মমিনকে ৩ হাজার করে টাকা করে দিয়েছি।

সে (মমিন) ঘর ওয়ারিংও করে দিবে বলেছে। এখন সে কোনটাই না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের পীরগঞ্জ সাব অফিসের এজিএম (কম) বাসুদেব দত্ত বলেন, আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় শেষ করেছি। উপজেলার নতুন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা যাতে প্রতারনার ফাঁদে না পড়েন, সেজন্য মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও শুনেছি, অনেকেই গ্রাম্য দালালদের হাতে টাকা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, পীরগঞ্জ পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের ৩’শ ৩১টি গ্রামকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রায় সোয়া ১ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য