দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ভূয়া দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জমির প্রকৃত মালিককে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জমির মালিকের বছির উদ্দিনের ছেলে মোঃ তমজিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে, বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত নবির উদ্দিনের ছেলে মৃত মোঃ বশির উদ্দিন একই গ্রামের মৃত বয়তুল্লাহ মন্ডলের ছেলে মৃত হাফিজ উদ্দিন মহাম্মদ এর নিকট হতে ১৪ডিসেম্বর ১৯৪৮সালে ২.৮৫শতক জমি ক্রয়ের পর ভোগদখল করে আসছিল। পরবর্তীতে মোঃ বশির উদ্দিন পাশবর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠি হাজরা ডাঙ্গা ইউনিয়নের চেংঠি গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে।

তার মৃত্যুর পর বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত অজির উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুর আলী জমির দলিল সূত্রে প্রকৃত মালিক মোঃ বশির উদ্দিনকে নাবালক দেখিয়ে ইংরেজী ১৯৫৩সালে ৪এপ্রিল মোঃ বশির উদ্দিন পিতা নবির উদ্দিনের নিকট জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়। কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী দলিল মুলে মালিক মোঃ বশির উদ্দিনের জন্ম ইংরেজী ১৯২৯সালের ১২এপ্রিল। সে সময়ে তার বয়স ছিল ২৪বছর। ২৪বছরের যুবককে নাবালক দেখিয়ে রেজিষ্ট্রিকৃত জমির দলিলের মাধ্যমে ভূমি জরিপের মাঠ পর্চা তাদের নামকরন করে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মোঃ বশির উদ্দিনের ছেলে মোঃ তমজিদুল ইসলাম বীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করে। আবেদনের শুনানি শেষে মামলার রায় মোঃ তমজিদুল ইসলাম পক্ষে প্রদান করা হয়। পরে মামলা জেলা জজ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

কিন্তু সেখানে তাদের পক্ষে রায় না যাওয়ার আশংকায় ভূয়া দলিল সৃষ্টিকারীরা জমি দখলের অপকৌশল লিপ্ত রয়েছে। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী পরিবার প্রশাসন সহ এলাকার সচেতন মহলের সহযোগী কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে মঞ্জুর আলীর ছেলে মোঃ সুমন জানান, ক্রয়ের পর থেকে জমিটি তারা ভোগদখল করে আসছে। খাজনা খারিজ তাদের নামে রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন পর বিক্রেতার পরিবারের পক্ষে তমজিদুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার শালিস বৈঠক ডাকা হলেও বৈঠকে তারা উপস্থিত হয়নি। বর্তমানে আদালতে এ ব্যাপারে মামলা চলমান রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য