আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় উপজেলার বড়খাতা এলাকার ২০ জন নারী চাষি পরীক্ষামূলকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। তাদের এ স্বপ্ন দেখিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সদস্য মর্জিনা বেগম। শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনে তাদের মাঝে জনপ্রতি ৩শ’ পিস করে স্ট্রবেরির চারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থানীয় শাপলা বড়খাতা ফেডারেশন নামে এক সংগঠন নারীদের মাঝে ওইসব স্ট্রবেরির চারা বিতরণ করেন।

শাহনাজ পারভীন নামে স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী এক নারী বলেন, স্ট্রবেরি নামে একটা ফল আছে শুনেছি। কিন্তু কখনো দেখিনি ও খাইনি। কৃষি কর্মকর্তাদের মুখে শুনেছি ওই ফল চাষাবাদে আমাদের এলাকার মাটি উপযোগী। মর্জিনা আপা আমাদের উজ্জীবিত করেছেন স্ট্রবেরি চাষে। তাই এবার স্ট্রবেরি চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

খোরশেদা বেগম নামে অপর এক নারী বলেন, সাহস করে আমরা স্ট্রবেরি চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি স্ট্রবেরি চাষ করে পারিবারের চাহিদা পূরণের পর তা বিক্রি করে আমরা লাভবান হব। লালমনিরহাট জেলা পরিষদ সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, এ অঞ্চলের জমিগুলো স্ট্রবেরি চাষে উপযোগী, কিন্তু কেউ চাষাবাদ করে না। তাই আমি কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু নারীকে স্ট্রবেরি চাষে উৎসাহ দিতে থাকি। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনের মাধ্যমে তাদের স্ট্রবেরি চাষের জন্য সহয়োগিতা করা হচ্ছে।

পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ সফিয়ার রহমান বলেন, নারীদের কৃষিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য আমরা স্ট্রবেরি চাষের জন্য ২০ নারী কৃষক নির্বাচিত করেছি। তাদের জনপ্রতি ৩শ’ চারা করে মোট ২০ জনের মাঝে ৬ হাজার স্ট্রবেরির চারাসহ সার ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি তারা স্ট্রবেরি চাষে সফলতা পাবে। পরিবারের চাহিদা পূরণের পর তারা ওই স্ট্রবেরি বাজারজাত করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ আলী বলেন, এ এলাকার মাটি স্ট্রবেরি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কিন্তু কেউ তেমন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করছে না। শাপলা বড়খাতা ফেডারেশনের ক্ষুদ্র চেষ্টা প্রশংসার দাবিদার। কৃষি অধিদফতর তাদের সফলতার জন্য সব প্রকার সহযোগিতা করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য