ভারতের গুজরাট রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

শনিবার ১৯ জেলার ৮৯টি আসনের কোটি ভোটার প্রথম দফার ভোটে অংশ নেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও দুই দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

১৮ ডিসেম্বর ভোট গণনা শেষে ১৮২টি আসনের ফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

২০১৪ সালে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নরেন্দ্র মোদীর জন্য গুজরাটের এই ভোটকে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই বছর পর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী জোটের চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অবস্থান কেমন হতে পারে গুজরাটের নির্বাচন তার একটি ইঙ্গিত দেবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

নিজের রাজ্যে দলের ক্ষমতা একচ্ছত্র করতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারাভিযানে খোদ মোদীই নেতৃত্ব দিয়েছেন। গুজরাটের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে ভোটও চেয়েছেন।

এ নির্বাচনেও বিজেপিই জিতবে বলে জনমত জরিপগুলোতে আভাস মিলেছে; যদিও তাদের আসন কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন এ দলটি এবার ৯১ থেকে ৯৯টি আসন পেতে পারে বলে এবিপি-সিডিএসের এক জনমত জরিপে অনুমান করা হয়েছে; সরকার গঠন করতে প্রয়োজন কমপক্ষে ৯২টি আসনের।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৭৮ থেকে ৮৬টি আসন পেতে পারে বলেও ওই জরিপে ধারণা করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভারতজুড়ে মোদীর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি; এ কারণে জনমত জরিপের অনুমান ভুল প্রমাণিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার দুই কোটিরও বেশি ভোটার তাদের রায় জানাবেন বলে ধারণা সরকারি কর্মকর্তাদের। প্রথম ঘণ্টাতেই ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গুজরাটকে ভারতের অন্যতম ধনী ও বিকাশমান অর্থনীতির রাজ্য বিবেচনা করা হয়। রাজ্যটিতে সাম্প্রদায়িক বিভেদের মাত্রাও ভারতের অন্য এলাকাগুলোর চেয়ে বেশি।

মোদি মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় ২০০২ সালে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় গুজরাটে হাজারের কাছাকাছি লোক মারা পড়েছিল; নিহতদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান।

দাঙ্গার পেছনে মোদীর ইন্ধন ছিল বলে সমালোচকরা অভিযোগ করলেও সুপ্রিম কোর্টের তদন্তে তার প্রমাণ মেলেনি। মোদি নিজেও ওই ঘটনায় কোনো ধরণের ‘অন্যায়’ করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য