আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সর্বত্র গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় ঘন কুয়াশার সাথে মৃদু শীতল আবহাওয়া বিরাজ করায় শীতের তীব্রতা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরীর ধুম। উপজেলা সদর ছাড়াও প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ চিহৃিত পয়েন্টে গভীর রাত পর্যন্ত লেপ-তোষক তৈরিতে ধুনকররা এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহীত করছে। ওইসব পয়েন্ট সমূহে সময় বাচাতে গ্রাহকদের বিশেষ অর্ডার সরবরাহ ছাড়াও ধুনকররা বিক্রির জন্য লেপ-তোষক তৈরি করে মজুদ করছে। ধুনকররা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক অর্ডার সরবরাহের পাশাপাশি তৈরীকৃত শীতবস্ত্র দেদারছে বিক্রি করছে।

গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ করে সন্ধার পর থেকে হিমেল বাতাসের সাথে ঘনকুয়াশার কারনে ক্রমান্বয়ে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি মাঝে-মধ্যেই মেঘে ঢাকা পড়ছে সূর্য। কখনো-কখনো রৌদ্রের দেখাই মিলছে না।

সন্ধ্যার পর রাত যতই গভীর হতে থাকে শীত ততই জেঁকে বসতে শুরু করে। সেই সাথে বৃষ্টির ন্যায় ঘনকুয়াশায় পথ-ঘাট,সড়ক-মহাসড়কসহ যতদূর দু’চোখ যায় চারদিকে শুধু কুয়াশা ছাড়া কিছুই মেলে না।
ঘনকুয়াশায় ঢাকা সর্বত্র। রাতে এমন বিরুপ আবহাওয়ার কারনে গরম কাপড় ছাড়া ঘুমানো দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বচ্ছল অবস্থা সম্পন্ন লোকজন নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে সব কিছুর উর্ধ্বে আগে লেপ-তোষক সংগ্রহ করছেন।

অপরদিকে, নিম্ন আয়ের পরিবার গুলো পরিবারের পরিধেয় পুরাতন শাড়ি-লুঙ্গিসহ অব্যবহৃত কাপড় দিয়ে মহিলারা সবকাজ ফেলে রেখে কাঁথা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। নতুন লেপ-তোষকের সাধ থাকলেও পরিবার গুলোর মধ্যে অনেকেরই সাধ্য না থাকায় তারা লেপ-তোষক তৈরী করতে পারছেন না।

শীত নিবারনের জন্য কাল বিলম্ব না করে নানা রং-বেরংয়ের সুতা দিয়ে তাঁরা কাঁথা বুনে চলেছেন। সেই সাথে দিনের ব্যবধানে সদরের তুলা ও লেপ-তোষক তৈরির কাপড়সহ গার্মেন্টস সামগ্রী বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান ও দোকান সমূহে বাড়ছে স্বচ্ছল ক্রেতা সাধারণের ভিড়। দ্রুত সরবরাহ পেতে ভূক্তভোগিরা লেপ-তোষক তৈরির বিপরীতে ধুনকর-দোকানিদের অগ্রিম বায়না দিচ্ছে অনেকেই।

টেইলার্স গুলোতেও শীতের পোশাক তৈরির ভিড় বেড়েছে আশাতীত। বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র তৈরির পাশাপাশি কোর্ট-প্যান্ট তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। স্বল্প আয়ের নিরুপায় শীতার্তরা অবশ্য ফুটপাতে গড়ে ওঠা পুরান কাপড় বিক্রয়ের দোকানে ধরনা দিচ্ছে। এসব দোকানই তাঁদের শেষ ভরসা।

কিন্তু শীতের প্রারম্ভে চাহিদার তুলনায় আমদানির পরিমাণ কম থাকায় মূল্য চড়া।নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা অর্থনৈতিক দৈন্যতায় বিমুখ হয়ে খালি হাতে বাড়ী ফিরছে।

এদিকে, গত মৌসুমের তুলনায় এবারে লেপ-তোষকের কাপড় ও তুলাসহ যাবতীয় সামগ্রীর মূল্য অনেকটা বেড়েছে। শিমুলতুলা প্রতিকেজি ২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা,কার্পাস ১’শ ৫০ থেকে ২’শ টাকা,বিভিন্ন মানের গার্মেন্টস প্রতিকেজি তুলা ২৫ থেকে ৬৫ টাকা, লেপ-তোষকের কাপড় মান অনুযায়ি প্রতি গজ-মিটার ৩’শ থেকে প্রায় ৪’শ টাকা। ধুনকরদের মজুরি শ্রেনী বিন্যাসে ১’শ ৫০ থেকে ২’শ ৫০ ট্কা।

পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের হরিণমারী গ্রামের পৈত্রিক সূত্রেই পেশাদার ধুনকর রাজু মিয়া (৫৫) ও হানিফ মিয়া এ প্রতিনিধিকে জানান,গত ৩ ধরে সদরের উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের টাউনহলের বারান্দায় লেপ-তোষক তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। এ বছর তুলনামূলক শিমুলসহ সব ধরনের তুলার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থান বিশেষে কোথাও কোথাও আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে,গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের পারিবারিক বধূরা গত মৌসুমের পুরান কাঁথা-কম্বল জোড়া-তালি দিয়েই শীত নিবারনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য