শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমে উঠতে শুরু করেছে শীত বস্ত্রের ব্যবসা। বিশেষ করে পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের জমজমাট ভিড়। তবে এসব পুরনো কাপড়ের বেশিরভাগ দোকান সৈয়দপুর শহরের ১নং রেলগেটের সামনের রেললাইনের ওপরে বসায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সারাদিনই অস্থায়ী দোকানগুলোতে বেচা-কেনা আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকায় যেকোনো সময় ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এলাকার লোকজন বলছেন, রেলগেটটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছরই ওই এলাকাতে বসানো হয়ে থাকে পুরনো কাপড়ের বাজার। এবারও অসংখ্য দোকানে বেচা-কেনা শুরু হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানই নির্বিঘেœ বসেছে রেল লাইনের ওপরেই।

দোকান ঘিরে ভিড়ও বাড়ছে, রেলপথেই চলছে বেচা-কেনাও। অসংখ্য মানুষের জটলায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে দূর থেকে ট্রেন আসার হুইসেল শোনা গেলে দোকানসহ পুরনো কাপড় ও অন্য মালামাল সরিয়ে নিতে হুড়োহুড়ি করে দোকানিরা। ট্রেন চলে গেলে ফের রেললাইনে দোকান বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কয়েকজন দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন দোকান প্রতি আমাদের বখরা দিতে হয়। টাকা না দিলে বসতে দেওয়া হয় না।

তবে কে টাকা নেয় সে কথা বলতে চাননি তারা। দোকানিরা আরও বলেন, নিঃসন্দেহে জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও অনেকে দোকান করছেন। তাই আমরা করলে দোষ কি। প্রতিদিন সৈয়দপুর থেকে আন্ত:নগরসহ ১২ জোড়া ট্রেন আসা-যাওয়া করে জানিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, রেল লাইনের দুই পাশে কমপক্ষে ২০ ফুট করে জায়গা ফাঁকা রাখার বিধান রয়েছে।

সে অনুসারে উভয় পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রেখে সীমানা নির্ধারণও করে রেখেছেন তারা। কিন্তু এসব জায়গা চলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারদের কবলে। প্রতি বছরের মতো এবারও এসব দোকান উচ্ছেদে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলেও জানান সৈয়দপুর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ। রেল স্টেশনের মাস্টার আবুল কাশেম জানান, চালকরা ট্রেন চলাচল নিরাপদ করতে ১নং রেলগেটের দোকানপাট উচ্ছেদের কথা বলে আসছেন। ট্রেন চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সৈয়দপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, রেল লাইনের ওপরে মার্কেট বসায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুরনো কাপড়ের দোকানগুলো রেললাইন থেকে সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে দোকানিদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য