মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে গত মাসের শুরুতে আংটি বদল হয় ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারির। কিছুদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদানের খবরটি প্রকাশ করে রাজপরিবার। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো রীতিমতো হাত ধুয়ে লেগেছে মেগান মার্কেলের পেছনে।

বিশেষ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো মেগানের গায়ের রঙের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খবর প্রকাশ করে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের সুপ্ত বর্ণবৈষম্যের বহু যুগ পুরোনো অন্ধকার দিক আবার উন্মোচিত হয়ে সবার সামনে উঠে এসেছে।

মেগানের বাবা টমাস মার্কেল এমি পুরস্কার জয়ী একজন মার্কিন আলোক নির্দেশক। তিনি শ্বেতাঙ্গ। মেগানের মা ডোরিয়া রাডলান একজন আফ্রিকান-আমেরিকান। পেশায় যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক। পারিবারিক সূত্রে মেগান তাঁর বর্ণ পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। সেই গায়ের রং নিয়েই এখন ব্রিটিশ গণমাধ্যম সরগরম।

মেগান-হ্যারির বাগদানের পরপরই ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইল হবু রাজবধূর পারিবারিক ঐতিহ্যকে বোঝাতে তাদের একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখে ‘ফ্রম স্লেভস টু রয়ালিটি’ (দাসত্ব থেকে রাজত্বে)। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মেগানের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন তুলাশ্রমিক। সেখান থেকে আজ রাজপরিবারের অংশ হতে চলেছেন তাঁরা।

শুধু এই প্রতিবেদনই না, একই পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, মেগান মার্কেল রাজপরিবারকে উত্তম ও আকর্ষণীয় উত্তরসূরি দিতে পারবেন। কিন্তু তাঁর মা ‘ডোরিয়া’কে বলা হয় ‘দুঃখজনকভাবে গতানুগতিক চেহারার আফ্রিকান-আমেরিকান নারী’।

ব্রিটিশ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটর-এর ব্লগে এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘অবশ্যই আজ থেকে ৭০ বছর আগে হলে মেগান মার্কেল রাজপুত্রের রক্ষিতা হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। স্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেতেন না।’ সেই সাময়িকী রাজবধূ হিসেবে মেগান অযোগ্য বলে এই ব্যাখ্যা দেয়, কারণ তিনি একবার তালাকপ্রাপ্ত ও ক্যাথলিক স্কুলে পড়া।

গত বছর মেগানকে ঘিরে এ ধরনের বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য না করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন প্রিন্স হ্যারি। এরপরও থেমে নেই বিতর্ক।

এক পক্ষ মেগানের সঙ্গে হ্যারির বাগদানকে ঐতিহাসিক বলে উল্লাসে ফেটে পড়ছে। তাদের বিবেচনায় এই রাজকীয় বিয়ে ব্রিটেনের বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্যের বিভেদ মেটাতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে আরেক পক্ষের ধারণা, একটি বিয়ে এত বছরের বৈষম্য মেটাতে পারবে না। কারণ, মেগান নিজেও অনেকটা শ্বেতাঙ্গঘেঁষা ছিলেন। আর এ কারণেই রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তাঁর, এমনটা মনে করেন ‘ব্ল্যাক গার্ল ফেস্টিভ্যাল’ নামে কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিটিশ নারীদের সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা পলা আকপান। তিনি বলেন, ‘মেগান যদি আমাদের মতো তাঁর সত্যিকারের কৃষ্ণবর্ণ নিয়ে সবার সামনে যেতেন, এভাবেই স্বাভাবিক সাজপোশাকে থাকতেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, তাহলে রাজপরিবার কোনো দিনই তাঁকে স্বীকৃতি দিত না।’ সূত্র: এনবিসি নিউজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য