ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে পক্ষ পাল্টানোর ইঙ্গিত দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় ইয়েমেনের সাবেক সুন্নি প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে হত্যা করেছে দেশটির ইরান-সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা।

তিন বছর আগে সেনাবাহিনীর সালেহ অনুগত অংশের সহযোগিতায় বিদ্রোহী হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে সুন্নি প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মনসুর হাদি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। রিয়াদে আশ্রয় নেওয়া হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসাতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী।

তিন বছর ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সৌদি জোটের সঙ্গে লড়াই করার পর গত বুধবার রাজধানী সানায় সালেহ অনুগত বাহিনীগুলো ও হুতি বিদ্রোহীরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। হুতি যোদ্ধারা শহরটির প্রধান মসজিদ চত্বরে জোর করে প্রবেশ করেছে, সালেহ অনুগতরা এমন অভিযোগ তোলার পর উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়ে যায়।

এরপর থেকে সানার রাস্তায় দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলতে থাকে। শনিবার শহরটির দক্ষিণাংশের উপশহরে যে এলাকায় সালেহর স্বজনরা বাস করেন সেখানে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হয়।

ওই দিনই টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সালেহ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে হুতিদের সঙ্গে তিন বছরের মিত্রতার ইতি টানেন। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া ও হামলা বন্ধের শর্তে সৌদি জোটের সঙ্গে সম্পর্কের ‘নতুন পাতা’ খুলতে চান বলে জানান।

এর প্রতিক্রিয়ায় সালেহকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যায়িত করে হুতি বিদ্রোহীরা।

অপরদিকে সৌদি জোট সালেহর এই পক্ষ পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে সালেহ অনুগতদের রক্ষায় হুতি বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালায়।

কিন্তু এরপরও হুতিদের সঙ্গে কয়েকদিনের লড়াইয়ে সালেহ-র অনুগত বাহিনী সানায় তাদের প্রভাবাধীন এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর থেকে সালেহর বাড়ির চারদিকে অবরোধ বসায় হুতিরা।

সিএনএন জানিয়েছে, টানা ৪৮ ঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন সালেহ। রাজধানী ছেড়ে নিজ শহর সানহানে পালিয়ে যাওয়ার সময় হুতিদের হাতে পড়েন তিনি।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সানার দক্ষিণে একটি চেক পয়েন্টে সালেহকে বহনকারী সাঁজোয়া যানে আরপিজি রকেট নিক্ষেপ করে সেটি থামায় হুতি যোদ্ধারা। এরপর সামরিক যানটি থেকে সালেহকে রাস্তায় বের করে গুলি করে হত্যা করে।

এ সময় দুপক্ষের লড়াইয়ে সালেহর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সহযোগীও নিহত হন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

এভাবে রাজনীতির মাঠের ধূর্ত খেলোয়াড় বলে পরিচিত সালেহর আরেকটি ‘কূটচাল’ মরণচালে পরিণত হয়।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সালেহর মৃত্যু হুতিদের মনোবল জোরদারে বড় ধরনের প্রভাব রাখতে পারে, অপরদিকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য