মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ॥ বন্যার পানিতে ভাসছে ঘরের আসবাবপত্র। ঘরে থাকা প্রতিবন্ধি সন্তানের কোমর পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। ঘরের সব মালামাল ফেলে মেয়ে পুজা রায় (৮) এবং প্রতিবন্ধি ছেলে লকেশ চন্দ্র রায় (১৩) কে নিয়ে ছুটে যায় বাড়ীর পাশে আশ্রয় কেন্দ্রে বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের নিজপাড়া মন্ডলপাড়া গ্রামের বকুল চন্দ্র রায় এবং তার স্ত্রী ভাগ্যমনি রায়।

ছেলে লকেশ চন্দ্র রায় স্থানীয় নিজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। সে ভাই বোনের মধ্যে বড়। ছোট বোন একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা-মা কৃষি শ্রমিক। সম্পত্তি বলতে বাড়ী ভিটে।

বন্যায় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকালে ত্রাণ বিতরণ করতে আসা বীরগঞ্জ সমিতি সদস্যের নজরে আসে প্রতিবন্ধি শিশুটি। পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পারে শিশুটির পরিবারের দৈন্য-দশার কথা। সব জানার পর বীরগঞ্জ সমিতি শিশুটিকে একটি হুইল চেয়ার প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সোমবার সকালে প্রতিবন্ধি শিশুটির বিদ্যালয়ে গিয়ে হুইল চেয়ার তুলে দেয় বীরগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং লাইম লাইট ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিল্পপতি মোঃ সফিউল ইসলাম জুয়েল।

এ সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সানাউল ইসলাম (বিপ্লব), নিজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ ইয়াকুদ আল-জান্নাত, বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম বুলু, বীরগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সহ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে লকেশ চন্দ্র রায়ের বাবা বকুল চন্দ্র রায় বলেন, জন্ম থেকেই লকেশ চন্দ্র রায় প্রতিবন্ধি। অভাব অনটনের সংসার তাই ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ঠিক মতো তিন বেলা নিজের খাবার জোটে না। তার উপর ঘরে প্রতিবন্ধি ছেলে। কি করবেন ছেলেকে তো ফেলে দেওয়া যায় না। সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা যখন জানালেন আমার ছেলেকে হুইল চেয়ার দেওয়া হবে আমি আনন্দে কেদে ফেলি। নিজের কাছে বিশ্বাস হচ্ছে না বিষয়টি। দেশে এখনও ভালো মানুষ আছে তার প্রমাণ শ্রদ্ধেয় দাদা ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিউল ইসলাম জুয়েল।

মা ভাগ্যমনি রায় জানান, প্রতিদিন যুদ্ধ করছি ছেলেকে নিয়ে। তাকে পড়াশুনা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কষ্ট করে স্কুলে দিয়ে আসতে হয়। প্রতিবন্ধি সন্তান থাকার কি যে কষ্ট সেটি আমরা বুঝি। এই কষ্টের দিনে আমাদের পাশে বীরগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিউল ইসলাম জুয়েল দাদা ছুটে এসেছেন। ভগবান উনার মঙ্গল করবেন। আমরা উনার এই ঋণ কোনদিনও শোধ করতে পারবো না।

নিজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ ইয়াকুদ আল-জান্নাত বলেন, ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির কার্যক্রম মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছে। বন্যার পর থেকে মানুষক বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে মানব সেবায় নজির স্থাপন করেছেন তারা। বীরগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশ থাকেন এই বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে প্রমাণ পেয়েছি। আজকে হত দরিদ্র পরিবারের প্রতিবন্ধি শিশুটিকে হুইল চেয়ার প্রদান করে মানব সেবায় নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। আমরা আশা করছি ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির এ ধরণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বীরগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং লাইম লাইট ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিল্পপতি মোঃ সফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতি সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে। মানুষের প্রয়োজনে বন্ধুর মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

আমরা এলাকার হত দরিদ্র মানুষের বন্ধু হতে চাই। তাদের কষ্টগুলি ভাগাভাগি করে নিতে চাই। এ ব্যাপারে আমরা শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলীসহ সমাজের সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। বীরগঞ্জ সমিতি সব সময় আপনার পাশে আছে। এ ছাড়াও যে কোন প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগত ভাবেও সাহায্যের হাত বাড়য়ে দিতে আপনাদের পাশে আছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য