আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়। আর তার মাত্র ১২ দিন আগে ৪ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের দামাল ছেলেরা মুক্ত করেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানাকে। ১১নং সেক্টরের সহকারি কোম্পানি কমান্ডার (টুআইসি) গৌতম চন্দ্র মোদকের নেতৃত্বে ৪ ডিসেম্বর যুদ্ধে প্লাটুন ও সেকশন কমান্ডাররা হলেন সামছুল আলম, এনামুল হক, মহসীন আলী, নাজিম উদ্দিন, তছলিম হবিলদার, আব্দুল জলিল তোতা, আবু বকর সিদ্দিক ও হামিদুল কাদেরী।

একাত্তরের ৩ ডিসেম্বর ভোররাতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম ফুলছড়ি থানা (পুলিশ ষ্টেশনে) উপর্যুপরি ১০টি গ্রেনেড হামলা চালায়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফুলছড়ি থানা পুলিশের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আতœসমর্পন করে।

এদিকে পাকসেনারা ক্যাম্প ছেড়ে গোবিন্দী ওয়াপদা বাঁধের আড়ালে অবস্থান নেয়। পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ঊর্ধ্বশ্বাসে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার দিকে দৌড়ে পালাতে থাকে। গ্রামবাসীও পাকসেনাদের ধাওয়া করে। এসময় মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া পাকসেনাদের একটি দল ওয়াপদা বাঁধের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

ঘন্টাব্যাপী এ সম্মুখযুদ্ধে ২২ পাকসেনা নিহত এবং শহীদ হন ৫ বীর মুক্তিযোদ্ধা। এরই মধ্যে দিয়ে শক্রমুক্ত হয় ফুলছড়ি। শাহাদত বরনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাগন হলেন আফজাল হোসেন, কবেজ আলী, যাহেদুর রহমান বাদল, ওসমান গণী এবং আব্দুল সোবহান। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গৌতম চন্দ্র মোদক জানান, পরদিন ৫ বীর মুকিযোদ্ধার মরদেহ সাঘাটা থানার সগুনা ইউনিয়নের খামার ধনারুহা স্কুল মাঠের পার্শ্বে সমাহিত করা হয়।

স্বাধীনতা উত্তরকালে এ ৫ বীর শহীদের সম্মানার্থে সগুনা ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিনগর ইউনিয়ন রাখা হয়। তাদের সম্মানে কবরের পাশেই নির্মিত করা হয় স্মৃতি সৌধ ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। ঐতিহাসিক এ দিবসটি উপলক্ষে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মুক্তিনগরের ধনারুহা স্কুল মাঠে আলোচনা সভা, শহীদদের কবরে পুষ্পুমাল্য অর্পণ, মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি উপস্থিত থাকবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য