আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: ক্লাস শেষে কলেজ ক্যাম্পাসে গোল চক্রে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী। কেউ কেউ খাতায় লিখছেন, কেউ বা দেখছেন। একজন শিক্ষার্থী সবার উদ্দেশে স্লোগানের সুরে প্রশ্ন করছেন, ‘খেলার মাঠে আমাদের উৎসাহ দেন কে?’ সমস্বরে উত্তর, ‘হারুন স্যার।’ পরের প্রশ্ন, ‘সিনেমা নিয়ে গল্প করেন কোন স্যার?’ সবার উত্তর, ‘সবার প্রিয় হারুন স্যার।’ আবার প্রশ্ন, ‘পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করেন কে?’ এটারও উত্তর একই।

উত্তরবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে গিয়ে দেখাযায়, হারুন স্যারকে নিয়ে মজা করছেন একদল তরুণ শিক্ষার্থী। ফুসলিয়ে ফুসলিয়ে স্যারকে মাঠে দেখে আনেন। স্যারের কন্ঠে গান শুনবেন বলে। শিক্ষার্থীদের চাপে মুখে পরে গাইতে হয়। স্যার কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গান গাইছেন,
‘ওরে নীল দরিয়া
আমায় দেরে দে ছাড়িয়া।
বন্দী হইয়া মনোয়া পাখি, হায়রে
কান্দে রইয়া রইয়া।’

স্যারের তালে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীরাও গাইছেন। এমন দৃশ্যপট দেখা গেল, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা উত্তরবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক সবার প্রিয় স্যার হারুন অর-রশীদ। শিক্ষার্থীদের কাছে যিনি ‘হারুন স্যার’ হিসেবেই বেশি পরিচিত ও আপন।

ক্লাসের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের নানার রকম বিনোদন মূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। দেখাযায়, কখনো কখনো খেলার মাঠে, কখনো কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মজার মজার গল্প করছেন। শিক্ষার্থীরাও যেন স্যারকে একদমই ছাড়তে চান না। একটু কলেজ আসা দেরি হলে স্যারকে ফোন করেন শিক্ষার্থীরা। স্যার কোথায় আসেন, কখন আসবেন কলেজে। যেন স্যারকে দু’চোখের আড়াঁল করতেই পারে না।

অর্নাস ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মাঝি বিহীন যেমন কোনো নৌকা নদীতে পথ প্রদর্শন করে চলতে পারে না। তেমন একজন আদর্শ ন্যায়নীতিবান, সৎ শিক্ষক ছাড়া একজন ছাত্র মানুষের মতো মানুষ হতে পারে না। মানুষ হওয়ার জন্য দরকার শিক্ষা। আর সেই শিক্ষা কেউ মায়ের গর্ভ থেকে শিখে আসতে পারে না। ছাত্র-শিক্ষক ছাড়া মানুষের মতো মানুষ হয়েও প্রকৃত মানুষের রূপ ধারণ করতে পারেনা। জীবন থেকে কিছু শিখতে হলে অবশ্যই একজন আদর্শবান, ন্যায়নীতিবান শিক্ষকের হাতেই শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।

শিখতে হয় সুশিক্ষা অত্যধিক জ্ঞান ও অনুকরণ গ্রহণ করতে হয়। তেমনী আমার এমন একজন প্রিয় শিক্ষক রয়েছে। যার কথা আমি লেখায় ও মুখের ভাষায় বলে প্রকাশ করতে পারবোনা। তিনি হারুন অর রশীদ স্যার। এ বিষয় শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, শিক্ষার্থীর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা একজন শিক্ষকের কাছে বেশ কঠিন কাজ। কখনো শিক্ষক, বন্ধু ও অভিভাবকের ন্যায় চলার চেষ্টা করি।

উত্তরবাংলা কলেজের ইংরজি বিভাগের শিক্ষক সুবাস রায় মনে করেন, শিশু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক, বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জীবনের সেরা সময়টা শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটায়। শিক্ষাঙ্গন তাই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে স্বর্গ, পবিত্রতম স্থান। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। একজন শিক্ষক দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত হয়।

শিক্ষকের সঙ্গে একজন ছাত্রের শুধু লেখাপড়ার আদান-প্রদানের সম্পর্কই মূল কথা নয়। একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীর মানসিক বিকাশ, মানবিক দিকগুলোকে জাগিয়ে তোলা, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের শিক্ষাটাও দেওয়া উচিত। ছাত্র-ছাত্রীদের বিপথ থেকেও ফিরিয়ে আনতে পারেন একজন আদর্শ শিক্ষক, দেখাতে পারেন আলোর পথ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য