ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াদিল্লিতে দলীয় সদর দফতরে তিনি মনোনয়নপত্র পেশ করেন।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং থেকে শুরু করে অন্য সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাহুলের নাম প্রস্তাব করেন সোনিয়া গান্ধী, মোতিলাল ভোরা, আহমেদ প্যাটেল, মহসিনা কিদোয়াই, অশোক গেহলোট, কমল নাথ, মুকুল ওয়াসনিক, শীলা দীক্ষিত এবং তরুণ গগৈ।

মনোনয়ন পেশের পর রাহুলকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ, এ কে অ্যান্টনি, পি চিদম্বরম, সুশীলকুমার শিন্ডে, আহমেদ পটেল, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ প্রমুখ।

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ‘সোনিয়া গান্ধী ১৯ বছর ধরে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস এগিয়ে যাবে।’

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেছেন, ‘কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই, এটা অবশ্যই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই করা হচ্ছে।’

তবে, রাহুলের মনোনয়নপত্র দাখিলের পরে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘এটা তো আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল যে বাদশাহের আওলাদই ক্ষমতায় আসবে।’

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, ‘কোনো সাফল্য ছাড়াই রাহুলের পদোন্নতি হচ্ছে। সামন্ততান্ত্রিক দলে এরকমই হয়। রাহুলকে শুভেচ্ছা। তার ওপরে অনেক বড় দায়িত্ব। কংগ্রেস মুক্ত ভারতের যে স্বপ্ন ভারতবাসী দেখছে, উনি তা পূরণ করবেন।’

কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আজই শেষ দিন। আগামীকাল ৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষার পরে বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১১ ডিসেম্বর নাম প্রত্যাহারের শেষ দিন। এক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থী হলে ১৯ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে এবং ওই দিনই ফল ঘোষণা হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটিতে নয় হাজার সদস্য আছেন। যদি দলীয় প্রেসিডেন্ট বাছাইতে ভোটের প্রয়োজন হয় তাহলে ওই সদস্যরা ভোটে অংশ নেবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য