সিরিয়ায় যুক্তরাজ্যের দেওয়া সহায়তা উগ্রপন্থিদের হাতে যাচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্প স্থগিত করেছে ব্রিটিশ সরকার।

বিবিসি প্যানারোমার অনুসন্ধানে বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে বলে সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

সিরিয়ায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা নিষ্ঠুর দণ্ডাদেশ দেওয়া একটি আদালতের সঙ্গেও কাজ করছে বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগগুলো ‘অত্যন্ত গুরুত্বের’ সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল ওই প্রকল্পটি চালায়। তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সিরিয়ায় সরকার বিরোধী অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর ফ্রি সিরিয়ান পুলিশ (এফএসপি) বাহিনীটি গঠন করা হয়েছিল। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে, এমন উদ্দেশ্যে এফএসপি গঠন করা হয়।

২০১৪-র অক্টোবর থেকে এই প্রকল্পটি চালাচ্ছে অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল (এএসআই) । ছয়টি দাতা রাষ্ট্র এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছে, ব্রিটেন তাদের অন্যতম।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিরিয়ার আলেপ্পো, ইদলিব ও দারা প্রদেশের বিদ্রোহী অধিকৃত এলাকাগুলোতে কমিউনিটি পুলিশিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই প্রকল্পে আওতায় নিরস্ত্র বেসামরিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে এফএসপি গঠন করা হয়েছে। তারা উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে না এমন নির্দেশনাও ছিল।

কিন্তু প্যানারোমার অনুসন্ধানে অনেক কিছুই উঠে আসে যার নির্দেশনা ছিল না এবং যা হওয়ারও কথা ছিল না।

অনুসন্ধানের পর ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্যানারোমার বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে এমন আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করছে পুলিশ, যে আদালতের এক রায় অনুযায়ী দুজন নারীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশকে যে নগদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো ওই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর ফান্ডে চলে যাচ্ছে।

একটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর বাছাই করা লোকজনই পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছে এবং পুলিশের বেতনের খাতায় মৃত ও কাল্পনিক লোকজনের নাম আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য