যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পালা বদলের সময় সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের পদক্ষেপ আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার এক টুইটে তিনি আরও বলেছেন, ফ্লিন এফবিআই এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা বলায় তাকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের মন্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে সম্ভবত ফ্লিনকে নিয়ে তদন্ত না করতে এফবিআই পরিচালককে অনুরোধ করার আগেই ট্রাম্প তার সাবেক উপদেষ্টা যে এফবিআইকে মিথ্যা বলেছেন তা হয়তো জানতেন। তবে ট্রাম্প কখন কী জানতেন, টুইটে তা নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছে না বলেও স্বীকার করেছেন ওই বিশেষজ্ঞরা।

তহবিল সংগ্রহে নিউ ইয়র্কে থাকার সময় করা টুইটে ট্রাম্প বলেন, “ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এফবিআইকে মিথ্যা বলেছে বলেই আমি জেনারেল ফ্লিনকে চাকরিচ্যুত করেছিলাম। ওই মিথ্যার বিষয়েই দোষ স্বীকার করেছেন সে। এটা লজ্জার যে, সে সময় তার কর্মকাণ্ড ছিল আইনানুগ। এতে লুকোনোর কিছু ছিল না।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক ফ্লিন ২৪ দিনের জন্য ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ে নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন, এটি প্রকাশ হওয়ার পর তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

শুক্রবার রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেন ফ্লিন।

এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্পশিবিরের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলারের ব্যাপকভিত্তিক তদন্তে উদঘাটিত অপরাধ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম সদস্য হিসেবে দোষ স্বীকার করলেন ফ্লিন।

ফ্লিনের এই স্বীকারোক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘সমস্যায়’ ফেলতে পারে এমন জল্পনা কল্পনার মধ্যেই শনিবার ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে টুইট করেন।

ট্রাম্প বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে রিপাবলিকান শিবিরের যে কোনো ‘আঁতাত’ ছিল না ফ্লিনের স্বীকারোক্তিই তা দেখিয়ে দিয়েছে।

“যা দেখা যাচ্ছে, কোনো আঁতাত ছিল না, আঁতাত ছিল না। সেখানে কোনো ধরণের আঁতাতই ছিল না, তাই আমরা খুশি,” হোয়াইট হাউজ থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে এমনটাই বলেন তিনি।

মে মাসে ট্রাম্প এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেন। রাশিয়া বিষয়ক তদন্তে বাগড়া দিতেই ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেছিলেন বলে পরে অভিযোগ করেন কোমি। ফ্লিনকে নিয়ে তদন্ত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অনুরোধ করেছিলেন বলেও দাবি সাবেক এই এফবিআই পরিচালকের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্লিন এফবিআইকে মিথ্যা বলেছেন এটা জানার পরই ট্রাম্প যদি কোমিকে তদন্ত থামানোর অনুরোধ করেন, তাহলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ‘সমস্যা’ সৃষ্টি করতে পারে।

“সেটা হলে প্রেসিডেন্ট ন্যায় বিচারে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন বলে প্রতীয়মান হবে,” বলেন সাবেক কৌঁসুলি ও নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক জিমি গুরুল।

শুক্রবার ওয়াশিংটনের আদালতে দোষ স্বীকার করার সময় ফ্লিন রাশিয়া বিষয়ক তদন্তে মুলারকে সহযোগিতা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কিসলিয়াকের সঙ্গে ফ্লিনের বৈঠকে রাশিয়ার ওপর বারাক ওবামা প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৈঠকে ইসরায়েল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে জাতিসংঘের এ বিষয়ক একটি ভোট পেছানোর চেষ্টা করতে কিসলিয়াককে অনুরোধও জানান ফ্লিন।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর দেখভাল করছেন এমন ‘এক শীর্ষ কর্মকর্তা’ ফ্লিনকে রাশিয়া ও অন্যান্য বিদেশি সরকারগুলোর সঙ্গে জাতিসংঘ ভোটের আগে যোগাযোগ করতে বলেন।

ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও জামাতা জেরার্ড কুশনারই ‘ওই শীর্ষ কর্মকর্তা’ ছিলেন বলে এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ বিষয়ে কুশনারের আইনজীবীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক সম্মেলনে ট্রাম্পের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেন, ফ্লিনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে- এর প্রমাণ মেলেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য