আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: দেশ স্বাধীনের পর থেকেই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে লালমনিরহাট জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। সেই সঙ্গে তিন দিকেই সরকারি ও আবাসিক ভবন নির্মাণের ফলে শহীদ মিনারটি অনেকটা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা হানাদারমুক্ত হয়।

পরদিনই বর্তমান থানাপাড়া রোডে (আগের মাস্টারপাড়া) মাতৃমঙ্গল স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি স্থাপিত হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধের আগে শহীদ মিনারটি ছিল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পুরনো গেটের সামনে। যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদাররা সেই শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দেয়। লালমনিরহাটের অন্যতম ভাষাসৈনিক শামসুল হক বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বর্তমান শহীদ মিনারটির স্থলে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে একটি গ্রন্থাগারসহ শরীর চর্চাকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি। লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক (অব.) আবদুুল মজিদ মণ্ডল বলেন, ষাটের দশকে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের গেটের সামনে একটি শহীদ মিনার ছিল।

দেশ স্বাধীনের পরই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তত্কালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত আবুল হোসেন ভাইসহ স্থানীয়দের উদ্যোগে বর্তমান স্থানে শহীদ মিনারটি পুনঃস্থাপন করা হয়। শহীদ মিনারটির অবস্থা এখন বেহাল। এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে আধুনিক মানের শহীদ মিনার নির্মাণের নকশা এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।

২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ওই শহীদ মিনার চত্বরেই উদযাপিত হবে। জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকার বলেন, শহীদ মিনারটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে গত বছর একুশে ফেব্রুয়ারি পালনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভার আলোচনায় উঠেছিল। আগামী মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আধুনিক মানের শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য